★ স্বাধীনতার গান ★
চঞ্চল রায়
স্বাধীনতাকে জানতে হলে
পড়তে হবে ইতিহাস,
না পড়লে জানবে কি করে
যেথায় করি বাস।
কেমন করে এলো স্বাধীনতা
কেমনে হলো দেশ ?
জানা সবার খুবই প্রয়োজন
না হলে হবো শেষ।
বাংলায় জন্ম আমার-তোমার
সবাই থাকবো এক,
জন্মদিন পালন করতে
খুশিতে কাটি কেক।
জীবনদিয়ে পেয়েছি স্বাধীনতা
রাখবো ধরে মান,
হারিয়ে যেতে দেবেনা আমরা
গাইব স্বাধীনতার গান।
ভালো টাকে করব গ্রহণ
খারাপ টাকে করব বর্জন,
জীবন দিয়ে করব রক্ষা
স্বাধীনতার যত অর্জন।
.............................. ..........................
(২)
★ প্রবাস জীবন ★
চঞ্চল রায়
সবার মুখে হাসি ফোটাতে
বিদেশ ছুটে যাই,
একটুখানি সুখের আশায়
কত যন্ত্রণা পাই।
প্রবাস মানে অন্য জীবন
অন্য দেশে থাকা,
প্রবাস মানে কত প্রশ্ন
সুখে-দুঃখে মাখা।
প্রবাস মানে স্বপ্ন দেখা
কত আকাঙ্ক্ষা মনে,
প্রবাস মানে অন্য দেশে
যাচ্ছে জনে জনে।
প্রবাস মানে কঠোর শ্রম
কঠিন জীবন যাপন,
কষ্ট করে ঘাম ঝড়ালেও
হয়না কেউরে আপন।
সুখের আশায় যাচ্ছি বিদেশ
কত স্বপ্ন তাতে,
সাগর মাঝে যাচ্ছে জীবন
দালাল দেরোই হাতে।
.............................. ........................
(৩)
★ বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি ★
(ব্র্যাক প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদ স্মরণে)
- চঞ্চল রায়
মানবতার সেবায় নিবেদিত
ছোট ছোট পদক্ষেপ
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বপ্নদ্রষ্টা
ফজলে হাসান আবেদ।
অনৈতিক স্বনির্ভরতার খোলসে
নীরব নারীমুক্তির আন্দোলন
স্বনির্ভর করার দৃঢ়প্রত্যয়ে
করেছিলেন তিনি পন।
প্রথমে কাজ করেন পুনরবাসন
পরে কমান শিশু মাতৃমৃত্যুর হার
স্কুলেযেতে মেয়েদের সাইকেল দেন
নারীরা দারিদ্র্য থেকে হয় পার।
বিশ্বব্যপী রাজনৈতিক সমথর্ন আদায়ে
অ্যাকশন বাংলাদেশ এর অবদান
স্বাধীনতার স্বপক্ষে জনমত তৈরিতে
তিনি কাজ করে যান।
হেলপ বাংলাদেশ এর মাধ্যমে তিনি
অর্থ সংগ্রহের কাজ করেন
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত তৈরিতে
প্রচারপত্র বিজ্ঞাপনও প্রকাশ করেন।
ভালো কাজের মধ্যে দিয়ে যারা
অনেকেই হয়েছেন বরণীয়
ব্র্যাক প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তিনিও
হয়ে থাকলেন চির স্মরণীয়। ............................. ..............................
(৪)
★ নতুন ক্যালেন্ডার ★
চঞ্চল রায়
চলমান গতিতে তোমাকেও
ফিরে আসতে হয় প্রকৃতির নিয়মে
তাই তোমাকে জানাই স্বাগতম।
কিন্তু মানব জীবনের প্রকৃতিতে
যা ঘটে চলছে তা আর ফিরবার নয়
তাই ছোট জীবনে পাওয়া তাতে কিসেকম।
তোমার চক্রাকারে ঘুর্নায়মান স্বভাব
আমাদের পালন করতে হয়
তাতে তোমার কিছু যায় আসে না।
তুমি শুধু প্রেসক্রিপশন করে দিয়ে যাও
হাসি কান্নার আলো আঁধারের বুকে
আর তো তাই ফিরে আস না।
তোমারও অবশ্য দোষ দিয়ে লাভ কি
তোমাকেও তো দয়া মায়া ছেড়ে
চলে যেতে হয় নতুনের পথ ধরে ।
হয়তো তাই পুরনো কাপরের মত
ছুঁড়ে ফেলে দিতে হয় তোমাকেও
নতুন বছরের নতুন ক্যালেন্ডারে।
.............................. .............................
(৫)
★তোমাদের এই নগরে ★
- চঞ্চল রায়
তোমাদেরএই নগরে
কতগাড়ি ঘোড়া চলে,
চলুক আপত্তি নেই
কিন্তু যার যা ইচ্ছে মতো
চালানো সেখানেই প্রশ্ন?
লাইন থেকে বেলাইনে
গাড়ী চালনোর প্রশিক্ষণ,
তোমাদের কে দিয়েছে?
তাও জানা নেই!
তাই তোমাদের গাড়িতে
উঠতে বসতেও ভয় লাগে,
কখন যে কোথায় লাগাবে
তার কোন শেষ নেই।
যেখানে ধীরে চলাচলের নিয়ম
সেখানে তোমরা জোরে চালাও,
আবার যেখানে হর্ণ বাজানো নিষেধ
সেখানে আরও বেশি জোরেে হর্ণ দাও।
কেন বাফু, হর্ণ বাজাতে বুঝি ভালো লাগে?
আজকাল আবার পায়ে ঠেলা গাড়িতেও
দেখছি মোটর ইঞ্জিন লাগিয়েছো
বাহ্ দারুণ! এত বুদ্ধিমান তোমরা।
এত বুদ্ধি নিয়ে কিভাবে ঘুমাও
তাও জানা নেই ।
শুধু শুনতে পাই প্রতিদিন তোমরা মর
আর তোমাদের আপন জনদেরকে
সারাজীবন দুঃখে-কষ্টে কাঁদাও।
তোমরা তো নিজে মরই
তাতে আমার দুঃখ লাগে না,
কিন্তু তোমাদের গাড়িতে যাদের মৃত্যু হলো
তাদের জন্য বড়ই দুঃখ হয়।
তারা না জেনে তোমার ড্রাইভিংলাইসেন্স হীন
গাড়িতে উঠে তাদের মৃত্যু হলো,
আর এসব দেখাশুনা যাদের দ্বায়িত্ব
তারা কতটুকু দায়িত্বশীল তাতেও অনেক প্রশ্ন?
.............................. .............................. .................
(৬)
★ শুধু তোমার মনে নেই ★
চঞ্চল রায়
এই আলো বাতাস সবাই জানে
এই সবুজ বন বৃক্ষ লতা ফুল ফল,
ঐ যে দূর দিগন্তে নীল আকাশটাও
মনে রাখে, শুধু তোমার মনে নেই।
রাস্তার সেই ফুলের গাছটাও জানে
তোমার আমার চিরন্তন প্রেমের কথা
কত বকুল ফুল দিয়েছিল তোমাকে
আর তুমি মালা গেঁথে দিতে আমায়।
নদীর ধারে বট গাছটি এখনো আছে
পাতারা নিরব শব্দে আমাদের কথা কয়,
আমাদের প্রেমের কথাগুলো ভাসছে
দিন-রাত্রি জানে শুধু তোমার মনে নেই।
ঐযে সাগরের বাঁধ ভাঙ্গা দূরন্ত জোয়ার
বালিতে লেখা তোমার নাম ঢেঁউ জানে
পাখিরাও চুপিচুপি ডালে বসে দেখেছিল
আমাদের চুমুর সেই মিষ্ট গোপন দৃশ্য ।
ঐযে পাহাড়ে পাথরের গায়ে লেখা নাম
এখন আরো অনেক উজ্জ্বল হয়ে আছে,
ঐ পাহাড়ের ঝর্ণার শব্দও জানিয়ে দেয়
তাদের মনে আছে শুধু তোমার মনে নেই।
.............................. .............................. ..........................(৭)
★ পাহাড়ের গায়ে পাহাড় ★
চঞ্চল রায়
পাহাড়ের গায়ে পাহাড়
পাহাড় ডিঙিয়ে যায়,
কত অজস্র গাছপালা
চোখ দেখতে পায়।
শতশত পশু-পাখি
মনের সুখে উড়ে,
তাই দেখে চোখগুলো
যায় যেন জুড়ে ।
পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে
তিস্তা বয়ে গেছে,
পাহাড়ের ধৈর্য দেখে
অনেক শেখার আছে।
কত রাস্তা বয়ে গেছে
পাহাড়েরও গায়,
আঁকাবাকঁ ছোট পথ
মনে ভয় পায়।
মেঘেরা যেমন ভাবে
পাহাড় ঘেসে উড়ে,
তুমি বিনে ভালোনেই
থেকো নাকো দূরে।
.............................. ................
(৮)
* কবিতার মধ্যেই আমাকে পাবে *
চঞ্চল রায়
আমি চলে গেলে তোমরা কেঁদো না
তোমরা আমার কবিতা পড়িবে,
কবিতার মধ্যেই আমি থাকবো
কবিতার মধ্যেই আমাকে পাবে।
আমি জানি মানুষ মারা গেল
প্রতিদিন কেউ কাঁদতে পারেনা,
সে আপনজন হোক বা না হোক
কিন্তু কবিতা প্রতিদিন পড়া যায়।
মনের সব ব্যথা-ব্যদনা দূর করে
যখন কোন কিছু ভালো লাগবে না
তখন হয় কবিতা পরিও অথবা লিখিও
দেখবে মনের সব অশান্তি চলে গেছে ।
সময়ের ব্যবধানে কতকিছুই নশ্বর হয়
একসময় রাজা-বাদসাদের প্রভাব ছিল
আজ তারা নেই শুধু পরে আছে স্মৃতি
প্রকৃতির নিয়মেই সবাইকে যেতে হয় ।
.............................. .............................. .......................
.
(৯)
★ সন্তোষেই সন্তুষ্টি ★
- চঞ্চল রায়
পৃথিবীতে অনেক কিছুই চাওয়ার থাকে
হয়তো পাওয়া হয়ে উঠে না,
কেন হয়ে উঠে না....
সেই অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে ।
তাই সন্তোষেই সন্তুষ্ট মেলে
কিন্তু মন কেন তা বুঝে না,
আত্মার চাওয়াটা কতটা জটিল
তা নিরবে ভাবুন বুঝতে পারবে ।
অাসলে ষড়ঋৃপুকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন
অাত্মা শুধু চায় আর চায়....
আবার অনেকের চায়ও না
প্রাকৃতিক জগতে জড় যতসব চাওয়া ।
কিছুক্ষণের জন্য তষ্ট হলেও...
পরক্ষণেই আবার অতৃপ্তি জাগে মনে
পুনরায় চাওয়ার আকাঙ্খা আসে
যাহা সান্তনাতেই তৃপ্ত হওয়া সম্ভব।
****************************** ***
(১০)
★আমরা যদি সজাগ থাকি ★
চঞ্চল রায়
ছেলেধরা গুজব চলছে !
দেবোনা কেউ কান,
না-জেনে কেউ পিটাবো না
নেবোনা কারো প্রাণ।
ভুয়া কথায় কান দেওয়া
নিজের সময় নষ্ট,
পরের কথায় করলে কাজ
হবে পরে কষ্ট।
সেতু নির্মাণে মাথা লাগে
মিথ্যে খবর ভাই,
এই কুসংস্কার দূর হোক
সবাই মোরা চাই।
মাদক নেশা ছেয়ে গেছে
যুব সমাজের মাঝে,
ভুল পথে কেউ যাবো না
সকাল-সন্ধ্যা-সাঁঝে।
শিশু ধর্ষণ হবে কেন?
যৌন হয়রানিও ঘটে,
আমরা যদি সজাগ থাকি
দমন হবে বটে।

No comments:
Post a Comment