Monday, September 2, 2019

পুষ্পিত মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক লেখা

স্বপ্নে রঙ্গিন পাখি ওড়ে

পুষ্পিত মুখোপাধ্যায়


আগে স্বপ্নকে ভয় পেয়েছি। স্বপ্নে কুৎসিত সরীসৃপ ঘুরে বেড়াত, আমি কুঁকড়ে থেকেছি। কালো মেঘেরা ভিড় করে আসত আমার ঘুমে। সেই চ্যাটচেটে ঘুমে। কেন সুগন্ধ মাখামাখি হয়ে থাকত না। আমি একটার পর একটা বসন্ত পার করে এসেছি, মেদহীন , রংহীন সেসব বসন্ত! আমার ভেতরে একটা পুরুষ সুগন্ধ সন্ধানী এক পুরুষ, রঙ্গিন পাখীর সন্ধানে থাকা একটা মানুষ সুগন্ধিত এক কুসুমের খোঁজে চোখ মেলে বসে থেকেছে দিনের পর দিন, হঠাত কেন যেন সেই সর্বশক্তিমান জাদুকর সুগন্ধিত চামর দুলিয়ে ঝাঁকড়ে দেয় আমাকে, জানি না, আমার অতৃপ্তির সাগরে এক মুঠো রঙ্গিন গুলাল ছড়িয়ে দিল। আহা শেষ ঘণ্টা সোনার আগে! েতেই আমি আবার দুলে উঠি, মনোরম, এক উদ্যানে এসে পড়লাম। সেই বাগিচার একটা নাম আছে বৃষ্টি।

কারুর জাদুকাঠির ছোঁয়ায় আমার খরা বিজন প্রদেশে বৃষ্টি নেমে আসায় আমার আবার ঘুরে দাঁড়াতে ইচ্ছা করল। আমার মাথার ওপর ঝুলে থাকা সেসব কালমেঘ দুহাতে সরিয়ে দিয়েছে বৃষ্টি । আপাদসম্ভক ভিজেছি প্রেমে ভালোবাসায়। সেই মহার্ঘ বস্তুর স্পর্শে নিজেকে বড় ধন্য মনে হয় প্রিয়ে, তুমি সেই অপার্থিব প্রেম দান করলে , আমি কৃতার্থ হলাম। সুগন্ধিত বৃষ্টির আঁচল জড়িয়ে নিজেকে কেন তরতাজা যুবক ভাবতে ভালো লাগল। একই তো বেঁচে থাকার মূলমন্ত্র। তোমাকে আতরের মত মেখে নিতেই ঘুমিয়ে থাকা রঙ্গিন সে পাখী আবার উড়ালে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। সারা জীবন শুধু কাঁকড় , পাথর জড়ো করে আসছিলাম। তুমি বসরা গোলাপ হয়ে সুগন্ধ কুড়তে দিলে। আপ্লুত হলাম আমি।






অভিজিৎ দাসকর্মকারের কবিতা

প্রাসঙ্গিক নদী

অভিজিৎ দাসকর্মকার 

সমস্ত দুপুর থেকে অভিসন্ধির শ্বাসকষ্ট____

প্রাসঙ্গিক নদী,
লোকালয়ে রসিকতা নিয়ে আসে

কৃষ্ণচূড়া ফুল
সূর্যতপার ছায়া
কালবিনাশী শব্দের 
ক্যালেন্ডার থেকে খোসে পড়ে অনিশ্চিতভাবে বসে থাকা কালভার্টের অনিবার্য বিকেল____

উবু হয়ে ঘুমতে দিচ্ছে না।

বাল্মীকির ঢিবি থেকে নেমে আসে চাঁদ।
নিরক্ষর দেওয়াল জুড়ে পোস্টার
তাতে প্লেটোর ঘ্যান ঘ্যানানি;
আর,
তুড়ি মেরে গাছের কোঠরে
ঢুকিয়ে দিচ্ছে 
জীবনের অগ্রাহ্য ক্রাইসিস, ও
প্রেমের গল্প...


মুহাম্মদ সেলিম রেজার কবিতা


আজবপুরের গজব মিয়া

মুহাম্মদ সেলিম রেজা

 
আজবপুরের গজব মিয়া থাকেন গাছের 'পরে
দিনটা তার গাছেই কাটে হাওয়া-বাতাস ধরে,
রাতের বেলা খাবার তরে পথে নেমে এসে
আরশোলা আর ব্যাঙের ঠ্যাং মজা করে চোষে।

আজবপুরের গজব মিয়া আজব মানুষ ভাই
গাছের বাকল জড়িয়ে কোমড়ে গায়ে মাখে ছাই,
মাথায় তার মস্ত টাক মুখে ছুঁচলো দাড়ি
হাসলে পরে বেড়িয়ে আসে দন্তহীন মাড়ি।

আজবপুরের গজব মিয়া মানুষ নাকি ভুত
কুস্তি লড়ে হাওয়ায় সাথে যেন ভগবানের দূত,
রোদ্দুরেতে হাত-পা শুকায় গাছের ডালে ঝুলে
শীতকালে হয় বেজায় খুশি গায়ে শিশির ঢেলে।

আজবপুরের গজব মিয়া ঠিকদুপুরে গাছের 'পরে
গলা সাধে জোরকদমে ঝুলে পায়ের ভরে,
শাঁখচুন্নি শ্রোতা সেথায় বানর বাজনদার
দত্যিদানো তালি বাজায় ভাড়ি চমৎকার।



অনিন্দিতা মুখার্জীর কবিতা

চিত্রকল্প 

অনিন্দিতা মুখার্জী 

এই ক্লান্ত চোখ দেখে আসছে ...
বহুকাল এক উৎসবমুখর ঢেউ ।
যেন নিখুঁত চিত্রকল্প সেজে উঠছে , 
শব্দের ঝড় নিয়ে আসবে হঠাৎই কেউ ।

নিপুন হাতে রচনা করা দৃশ্যকল্প
ভায়োলিনের সুরে জমাটি এক গল্প ।

তরুণ পিয়ানোবাদকের হাতের ছোঁয়ায় ,
প্রতিবিম্বরা জীবন্ত হয়ে ওঠে ।
নির্বাক শ্রোতা আমি , আবিষ্ট মায়ায়  , 
না জানি কখন সাজানো পর্দা ওঠে ! 

অশান্ত মন , আজও স্মৃতিবিধুর ...
নিরালায় খুঁজে ফিরি সরোদের বিষণ্ন সুর ।।



হেমন্ত সরখেলের লেখা

পারাপার
                                  
হেমন্ত সরখেল



বক হয়ে দাঁড়িয়েছি
তোমাদের আবদ্ধ ক্ষেতে। সেই কবে ভেঙে গ্যাছে ঠ্যাং একখানা
আরখানি রয়ে গেছে মোটে।

লাল আর হলুদ রঙে সারি বেঁধে টাঙানো সবুজ
এক চোখে রাখি
বকধ্যানম। অন্যতে ঠুঁলি অতি প্রাচীন। নগরে বন্দরে প্রান্তে
পড়ে আছে দীন দিন। ফাঁক দিয়ে
গলে যায় স্ট্রীট লাইটের মৃতদেহ। বক হতে
একচোখা কেন হতে হবে
একটু কেউ তো বুঝিয়ে যেও!!!

ছেলেটাকে সাথে করে আজকাল শেখাচ্ছি ব্যবসা। এখানে পাস আর রোককে্ জানতে হয়। জেব্রাকে বানিয়ে শহুরে
তার দাগে - পারাপার চেনাতে হয়। ঘরে বসে
খাতায় আঁকিবুকি নিতান্ত বালকসুলভ
খই যদি না ছেটে তবুও শিশু
ভোটার। বীরপুঙ্গব।

ঘরে ঘরে একচোখো। এক ঠেঙো পাড়ায় পাড়ায়। পারাপার শিখে নে বা'জান-
আমার যে বেলা বয়ে যায়...
                     -----


বিজন মজুমদারের কবিতা

আলো আঁধারে

বিজন মজুমদার 

 
কোন আঁধারই ঢাকতে পারেনা 
যার মুখে আছে আলো 
ঘন মেঘে ছেয়ে  সুনীল আকাশ 
হোক না যতই কালো ! 

চোখের দীপ্তি দেয় যে বুঝিয়ে 
কোন আলো তার মনে 
হৃদয়ের দীপ জ্বেলে দিয়ে যায় 
বোধ শিখা জনে জনে ! 

আলোয় আলোয় আলোকিত যার 
হৃদয়ের প্রতি দ্বার 
আঁধার হটিয়ে আলোর ঠিকানা 
আনবেই বারবার !




অয়ন করের কবিতা

ভালো আছি

অয়ন কর 


ধ্বংসের মুখে আমি। ধ্বংস হতে দেখছি।
শিখছি। কীভাবে ধ্বংস করতে হয়, তাই শিখছি।

আমারও যা কিছু সব। কোন পথে!
কীভাবে চলে গেছে সব হারাতে!

পথের বাঁকে লুকোনো অভিমান। ছেড়ে গেছি সব।
আপাতদৃষ্টিতে আলো। আড়ালে সে অন্ধকারের ডাক।

সময় তো চেনে না তোমাকে। আমাকেও দেখেনি কাছাকাছি
ভাঙনের মুখে। ধ্বংসের মুখে। তুমি জানো আমি কতো ভালো আছি!।।






মনি রায় ঘোষের কবিতা

ঋন

মনি রায় ঘোষ

 

অনেকট পথ তো হেঁটে আসা হল।
জীবনের কাছে অনেকটা ঋন জমা হল।
যুগ যুগ ধরে জোৎস্না পেরিয়ে একা হাঁটে চাঁদ।
রোদেলা দুপুরেও তামাটে হয়ে ফিরে আসে
একাকী রাত।
কান পাতলেই শোনা যায়
বুকের ভেতর তীব্র বিস্ফরন।
সময়ের সাথে সাথে রুদ্ধ হয়ে আসে
ধমনীর সঞ্চালন।
দিন পেরিয়ে রাত আসে আবার রাত পেরিয়ে দিন।
সময়ের কাছে থেকে যায় শুধু এক সমুদ্র ঋন।


ডঃ সুকান্ত কর্মকারের লেখা

তিনটি সত্যঘটনার ওপর লেখা কবিতা - দুটি ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের
দুই ছোট্ট গ্রামের বুকে এবং একটি সুদূর কেরালায়। সাম্প্রদায়িক
সম্প্রীতির অপরূপ গাঁথা তিনটি ঘটনা যা গোটা দেশের কাছে সৌভ্রাতৃত্বের নিদর্শন হয়ে থাকুক, মানুষকে বাঁধুক ভালোবাসার
বন্ধনে।
            

  কবিতা - ( ১ )

     ওরা সকলে গিয়েছে
ওরা সকলে গিয়েছে শেষযাত্রায়,
ওরা কেউ হিন্দু, কেউ মুসলমান,
ওরা সকলে চাঁচলের উত্তরপাড়া গ্রামের,
মানুষ ওদের পরিচয়,
গ্রামের বৃদ্ধা আরফুন বেওয়ার পরলোকে,
ওরা সকলে গিয়েছে শেষযাত্রায়,
মিলে মিশে একাকার হিন্দু-মুসলমান,
শ্রদ্ধায় দিয়েছে তাঁকে মায়ের স্থান,
ওরা মাকে শোয়ালো কবরে,
মাটি দিল বেদনায় বিদায়বেলায়,
ওদের চেতনায় মিলনমন্ত্র গাঁথা,
ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুর একতায় বাঁধা।
            
কবিতা - ( ২ )

           মনুষ্যত্বের জয়গান
প্রবল বন্যার তাণ্ডবলীলা প্রকৃতির রোষে
কেরল ভেসেছে জলের চাপে,
গ্রামের পর গ্রাম, মাঠের পর মাঠ,
ত্রিচুরের মালা এলাকার যত মসজিদ প্রাঙ্গণ
জলোচ্ছ্বাসের গ্রাসে, পবিত্র ইদুজ্জোহার দিন
সমাগত, মানুষ দাঁড়াল মানুষের পাশে,
খুলে দিল মন্দিরের দ্বার,
পুরাপিল্লিকাভু রক্তেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে
মুখরিত আল্লার নাম নামাজের মাঝে...
সকলে আমরা দেশের সন্তান--
চেতনায় মিলে গেল হিন্দু-মুসলমান,
মহাভারতের চির-ঐক্যের শাশ্বতবাণী
ধ্বনিত আকাশে-বাতাসে,
মহামিলনের মন্ত্রে বাজে মনুষ্যত্বের জয়গান।
             
কবিতা -  ( ৩ )

        বাংলার একটি ছোট্ট গ্রামের বুকে
খবরের কাগজের পাতা জুড়ে অসংখ্য খবর,
তারই মাঝে ছোট্ট এক খবরে মোড়া
       আলোকিত জীবনের কথা ----
হিন্দু মায়ের শবযাত্রায়
          কাঁধ দিল মুসলমান সন্তান,
          দিয়েছে তাকে মায়ের স্থান,
     অন্তিমযাত্রায়, হিন্দু আচরণের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধায়,
খোলবাজা হরিবোল ধ্বনির সঙ্গে
        মায়ের মুখাগ্নি কাঠের চিতায়....
ভাবনায় আসে নি কোন জাতপাতের কথা, ধর্মের বৈষম্য
চেতনায় ছিল না মানুষের প্রতি বিদ্বেষ
     সম্প্রীতি আর সৌভ্রাতৃত্বের বাঁধনে বাঁধা
               অন্তরে একতার সুর
         বাংলার একটি ছোট্ট গ্রামের বুকে ।



                 _______________

nbt_গৌরব_সেনের লেখা

ঠিক_যেমনটা

nbt_গৌরব_সেন

সারাটা দিন বৃষ্টি,বসের খিস্তি,ট্রেনের ঠেলাঠেলি ও সব কিছুর ঊর্ধ্বে ফেরার পথের অটোর ঝুল খাওয়া।ফ্রি প্যাকেজ ঘামে ভেজা জামা,শুক্নো চারটে রুটি–তরকারি আর ৫ টাকার বিনিময়ে সিগারেটের পর অপেক্ষা শুধু অপেক্ষা।মোবাইল এ্যাপস থেকে দেখলাম এখনও মিনিট ২০ দেরী বারাসাত যাওয়ার ট্রেন আসার।সুখটান টা মেরে স্টেশনের দিকে এগোতে লাগলাম।বেশি সময় লাগেনা দত্তপুকুর থেকে বারাসাতের, তাই সিট না পাওয়ার নিরাশা মেটাতে প্ল্যাটফর্মের ভীড় থেকে নিজেকে সরিয়ে একটু ফাকা জায়গার সন্ধানে ক্লান্ত চরন সহযোগে হাটতে লাগলাম যদি গন্ধ মোজা ব্যুট টা খুলে একটু হাত বা ছরিয়ে বসা যায়।কিছুটা যেতেই চোখে পড়লো মায়ের মন্দির,স্বাক্ষাত মা কালীর মন্দির।সাত পাঁচ না ভেবে শষ্টাঙ্গে একটা প্রনাম ঠুকলাম।মন্দির মূর্তি  তুলনায় আয়তনে বড় প্রনামী বাক্স ডাক দিতে লাগলো "কি রে আয়,আমার কাছে আয়...."।পকেটের দিকে হাত টা বাড়াবো একমুঠো পুণ্য বাইপাশে কেনার জন্য ঠিক এমন সময় বয়স্ক এক মহিলা চোখে মুখে অসুস্থতার ছাপ,পড়নে নোংরা সাদা শাড়ি তাও ছেঁড়া আমার উদ্দেশ্যে ডাক দিলেন " বাবা অল্প কিছু সাহায্য কর না,আমাকে দেখার কেউ নেই,ভগবান তোকে ভালো রাখবে..."।মানবিক সুপ্ত চিন্তা গুলো মাথাচাড়া দিতে লাগলো সত্যিই তো ওনার কেউ নেই,কি বা করতে পারি আমি...? কিন্তু মাইনেও তো অল্প অত টাকায় বা কোথায়...?সব কিছুতো আমার হিসাবে চলে,মানি ব্যাগ থেকে বের করা দশটাকা সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলো না কোথায় ওর ঠাঁই হবে....?হঠাৎ ট্রেনে আসার অগ্রিম বিঞ্জপ্তি জানিয়ে স্টেশনের মাইকের উচ্চ স্বর যেন বলতে লাগলো "তাড়াতাড়ি ব্রো...."। না আর ভাবতে পারছি না ধুর!আমি বাপু ধার্মিক লোক আছি,#ভগবান যদি পাপ দেয়...?



প্রাণকৃষ্ণ ঘোষের কবিতা

মানুষ

প্রাণকৃষ্ণ ঘোষ

অনেকখানি হাঁটার পরে
স্মৃতি অবরুদ্ধ হয়ে আসে
ছায়াপথ বিষণ্ণ আবেগের মধ্যে
খুঁজে নেয় অনাবিল স্নেহপট
ফেরার পথে হাঁটতে গেলেও
একটা তরতাজা শরীর লাগে
সেই শরীরের রক্ত, মাংস, ঘাম কোথাও
কোনও সম্প্রদায়ের গন্ধ থাকে না
যে গন্ধটা পাওয়া যায় সেটা মানুষের

মুহা .আকমাল হোসেনের দুটি কবিতা

শীত
-----------
-মুহা .আকমাল হোসেন 

শহরের  আলোর  ভিতর
একটা  নুলো শীত বসে থাকে 
            মৃত কম্বল রাজপ্রাসাদে।

উৎসবের  আকাশে ইস্ত্রি  করা মেঘ
মসৃণ  নারীর  লাজুক ঘুঙুর হাসতে হাসতে -
গলে যায় আকাশ গঙ্গার জলে।


আমারা  শীতের বিষে  বসে ওঝার উঠোনে ...



নদী 
------

একটা নদী  ভুখা ময়ালের মত শুয়ে থাকে
একটা নদীর আয়না  আমাকেই  ফিরিয়ে  দেয়
একটা নদীর পোয়াতি  হওয়ার গল্প রূপকথা ।


সভ্যতার ছাপ পড়ে আছে  পাড়ে!
অরণ্য নকশা  পথে  পাখিদের দৈনন্দিকতা  নদী পার হয়
এখানে  পৃথিবীর  প্রথম গল্পরা মাছ হয়ে খেলা  করে ।


একটা নদী শায়া খুলে  চরের বাসর জ্যোৎস্নায়
একটা নদীর দুঃসহস রাষ্ট্র  ভূগোল  ভাঙার
একটা নদী পাঁঝরা পাড়ার মেহদী  মাখা বিয়ের  গান ।





এষা চক্রবর্তীর কবিতা

মনখারাপের দৃশ্যবলী
            

এষা চক্রবর্তী


মনখারাপের সাপটা ফণা তুললেই-
ছুড়ে ফেলি আইপড,মাউস
ঘরময কফির কাপের টুকরো
ছেডাঁ ছবিরা কাগজের গোলা...

মাযের চোখে নীলচে ভয়,
আমি দেখি হিংস্র সিংহ
ঢুকে যায আমার শরীরে।

ইন্জেকশনের সিরিন্জ নামছে ঘুম
নীল গোলাপি স্বপ্নেরা সব
টানছে আমার হাত উষ্ণতায়
ছাযার বৃত্তে ফিরে যেতে যেতে
ছুডে ফেলি সিংহের খোলস।


বিশাল বিশ্বাসের কবিতা

              গ্রহ 


      বিশাল বিশ্বাস 


সৌরজগৎ এর উন্নত গ্রহ
প্রাণের সঞ্চারকারী পৃথিবী,
যেথায় শুধু দাঙ্গা আর বিদ্রহ
আটকে রাখা হয় মানুষের আগ্রহ।

 প্রায় সমগ্রই রাজনীতিতে আবদ্ধ 
চায় শুধু দু সাহসিক  অনর্গল যুদ্ধ,
বেঁচে থাকার অপর নাম কী তবে বিদ্রহ?
এ তবে কেমন গ্রহ?

অক্সিজেন কার্বন ডাই অক্সাইডে ভরা 
চারিদিকে সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা,
চারিদিকে শুধুই কলরব--
মানুষ কেন নিরব?
না বুঝেই করে কলরব।

 দাঙ্গা হাঙ্গামা যুদ্ধ বিদ্রহ
 এই কী তবে মোদের উন্নততর  গ্রহ,
যেথায় ঘটে চলেছে শুধুই বিদ্রহ
আজ কেন অনবরত হচ্ছে সবই লুপ্ত 
সামনে আসছে বেঁচে থাকার এক নতুন যুদ্ধ,
এই মোদের দেশ ভারতবর্ষ।

সবকিছু হবে রাজনীতিতেই  আবদ্ধ 
মানুষ হবে নীরবদ্ধ,
সবই হবে  লুপ্ত 
আহাকারের ঝর হবে সুপ্ত 
অবশেষে গ্রহই হবে  গুপ্ত 
এই মোদের  ছোট্ট গ্রহ।।






Attachments area

সুবন্তময় ডাকুয়ার কবিতা

বিলাসীতা
সুবন্তময় ডাকুয়া

তোমার আঁকা পিচ্ছিল ছবি মান্যতা পেলেই
দুঃখ বিলাসী সেজে উঠি!

এই দাম্পত্য আর শুরুর সংসারের শরীর থেকে 
সুখ পিছলে যায়
নিজস্ব ইতিহাসের ইতি-কথায়
নাগরিক জীবন আর অন্ধকারের বিভেদ
ধারণ করেছি মস্তিষ্ক গর্ভে
আমার তৃতীয় জন্ম লালিত হচ্ছে কাব্যথালায়।


বৃন্দাবন ঘোষের কবিতা

তুমি বিনা

বৃন্দাবন ঘোষ

কেন,ই করি এত ছটফট আমি তোমার লাগি
তুমি হবে কি সত্যি করেই আমার প্রেমের ভাগি।
তোমার যেমন কথাবার্তা তাতে তো তাই বুঝি,
ফালতু কেন রাখো গোপন বল না সোজাসুজি।
তাতে তো জেনোএই সুবিধা প্রেম প্রগাঢ় হয়,
আমাদের এই শুদ্ধ প্রেম ছড়াবে বিশ্বময়।
বিশ্বজনে যাবেই জেনে দুজনের ভালোবাসা,
বলবে তারা আহা কি প্রেম দুজনের এক আশা।
দুজনে দুজনকে খুব করে চায় এক সাথে চায় মরণ,
এবার তাহলে বুঝে নিতে হবে প্রেমের কেমন ধরণ।
অনেক যাচাই করেছি তোমায় এই বুঝেছি শেষে
তুমি আমারে খুব করে চাও বলতে চাও অক্লেশে।
তোমার প্রেমকে স্বীকৃতি দিলাম এসো না আমার বক্ষে,
তুমি বিনা যে কঠিন খুবই থাকা আমার পক্ষে।।



অঙ্কিতা বর্মন চক্রবর্তীর কবিতা

তখন বিকেল

অঙ্কিতা বর্মন চক্রবর্তী

পড়ন্ত বিকেল উষ্ণতা মাখে,
স্নিগ্ধতা খোঁজে মন..
সময়ের বুকে আঁচড় কাটে,
মৃত্যু সারাক্ষণ..

স্তব্ধ রাত ফিসফিসায়,
শহুরে অলিগলি..
আতসকাঁচে আটকে চোখ-
অতীত ফিরে চলি..

জোনাকি আসে অন্ধকারে,
রাত জাগানোর বাতিক..
চেনা ছকেই কাটবে তবু,
একলা পথের পথিক। 


আবদুস সাত্তার বিশ্বাসের লেখা গল্প

 মেয়েটি
                     
 আবদুস সাত্তার বিশ্বাস

      "মেয়েটি বারবার তাকাচ্ছে কেন আমার দিকে, বলতে পারো?"
      "তোমাকে চেনে হয়তো।অথবা এমনও হতে পারে তোমার মতো দেখতে তার কোন বন্ধু আছে। তুমি তার সেই বন্ধু কিনা দেখছে।"
      "তাহলে সে কাছে এসে আমার সঙ্গে কথা বলে দেখুক।ওভাবে না তাকিয়ে।আমার ভীষণ অস্বস্তি লাগছে।"
        "মানুষের মতো মানুষ তো থাকে।কাছে এসে দেখল,তুমি তার সেই বন্ধু নও।তখন ও লজ্জা পাবে না?তাই বারবার তাকাচ্ছে।এতে তোমার অস্বস্তি লাগার কিছু নেই।তুমিও তাকাও না?"
        "মেয়েদের দিকে তাকাতে আমার লজ্জা করে।আচ্ছা,মেয়েটির তাকানোর কি আর কোন কারণ থাকতে পারে?"
        "একটি মানুষ একটি মানুষের দিকে অনেক কারণেই তাকায়।তাকায় বলে তাকে খারাপ ভাবা যাবেনা। ভাবাটা কিন্তু অন‍্যায়।"
        "না না, আমি খারাপ ভাবছি না।আমি শুধু জানতে চাইছি।"
       " বুঝতে পেরেছি আমি তোমার কথা।আমি তোমাকে এমনি বললাম।হ‍্যাঁ, মেয়েটি তোমার দিকে যে যে কারণে তাকাচ্ছে বলে আমার ধারণা, তার মধ্যে প্রথম কারণ হল,ভালো লাগা।কোন মানুষের চোখে যখন কোন জিনিস ভালো লাগে সেই মানুষ সেই জিনিসটির দিকে কিন্তু বারবার তাকায়।দেখে যেন তার ইচ্ছে পূরণ হয় না। মেয়েটির হয়তো তোমাকে সেই রকম ভালো লেগেছে।ভাবছে, তুমি তার মনের মানুষ হলে খুব ভালো হয়।ধরে নেওয়া যেতে পারে, মেয়েটি বারবার তোমার দিকে তাকানোর এটা একটি প্রধান কারণ।কোন যুবক যখন বারবার একটি মেয়ের দিকে তাকায় তখন কিন্তু তার তাকানোর মধ্যে ভালো লাগাটাই কাজ করে।অর্থাৎ সেই মেয়েটিকে দেখতে তার ভালো লাগে বলেই বারবার তাকায়।বোঝা গেল?"
       "গেল। কিন্ত মেয়েটি যে তার ভালো লাগা থেকে তাকাচ্ছে এটা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না।"
       " বিশ্বাস না হওয়ার কারণ?"
        "মেয়েটি কিন্তু অতীব সুন্দরী।আমার মতো বেকার যুবককে সে পছন্দ করবে কেন?তাই আমার বিশ্বাস হচ্ছে না।"
        "মানুষের এই নেগেটিভ চিন্তা করাটাই খারাপ।এরকম চিন্তা যারা করে আমি তাদের পছন্দ করিনা।তুমি যে বেকার যুবক এখানে তুমি আর আমি ছাড়া কে জানে?মেয়েটি জানে?আর তাছাড়া মেয়েটি না হয় সুন্দরী হল।তুমি সুন্দর নও? মেয়েটির থেকে তুমি দেখতে কম কিসে? তোমার যেমন হাইট তেমনি সলিড বডি।প্রশস্ত বুক।মাথা ভর্তি কালো চুল।এই যে তুমি এখানে সাদা প‍্যান্ট-শার্ট আর কালো সু পরে রয়েছ দেখে তোমাকে বলিউডের হিরো ছাড়া কে বলবে শুনি! শুধু ওই মেয়েটি কেন?আরো অনেক মেয়েই বারবার তাকাবে তোমার দিকে।এবং তোমার সঙ্গে ডেটিংয়ে যেতে চাইবে।"
        " এছাড়া আর কি কারণ থাকতে পারে?"
       " কারণ তো অনেকই আছে।তবে মেয়েটির তোমার দিকে তাকানোর কারণ এখন এটাই। ভালো লাগা।"
         এতক্ষণ ধরে বীরেশ তার মনের সঙ্গে কথা বলল।বীরেশ লেখালেখি করে।কিন্তু কিছু দিন থেকে একটিও গল্প সে লিখতে পারেনি।  গল্পের প্লট মাথায় আসেনি।গল্পের প্লট মাথায় না এলে বীরেশ লিখতে পারে না।কেউ কেউ অবশ্য মাথা খাটিয়ে যেকোন সময় গল্প লিখে ফেলতে পারে। বীরেশ পারে না।তার মাথায় গল্পের প্লট স্বত:স্ফূর্ত ভাবে না এলে সে লিখতে পারেনা। একেক জন একেক রকম।তবে বীরেশকে গল্পের প্লটের জন্য কোন দিন ভাবতে হয়নি।স্বত:স্ফূর্ত ভাবেই তার মাথায় প্লট এসেছে।সে তখন সেই প্লটের উপর গল্প লিখেছে। কিন্তু এবার আসছে না কেন?তাহলে কি যৌবন চলে যাওয়ার মতো লেখা তার কাছ থেকে চলে গেল?  
         গল্পের উৎসই হল গ্রাম।তাই গল্প লিখতে হলে নাকি গ্রাম ঘুরতে হয়।গ্রামের মানুষের সুখ-দুঃখ উপলব্ধি করতে হয়।বীরেশের সে রকম মনে হলে পরে সে গ্রাম ঘুরতে বেরিয়ে পড়ল।ঘাড়ে বড় ফিতা অলা কাপড়ের কালো ব‍্যাগটা ঝুলিয়ে বাই সাইকেল নিয়ে। গ্রাম ঘুরতে ঘুরতে যদি গ্রামের কোন কিছু দেখে মাথায় প্লট আসে।
         নদীর এপারে অনেক গ্রাম আছে।ওপারেও কম গ্রাম নেই।ছোট।বড়।এবং মাঝারি গ্রাম মিলে। এপারের গ্রাম গুলো সব ঘোরা না থাকলেও ঘোরা আছে।কিন্তু ওপারের গ্রাম গুলো ঘোরা নেই। বীরেশ তাই শ‍্যামপুরের ঘাট পার হয়ে ওপারে চলে গেল।প্রথমে যে গ্রাম পড়ল ওটার নাম রামকৃষ্ণ পুর।হিন্দু-মুসলিম উভয় জাতির বাস। মাঝারি গ্রাম।গ্রামটি ঘুরে বীরেশ এবার তরতিপুর গ্রামে এসে ঢুকল।এই গ্রাম ঘুরে বীরেশের মনে গ্রামটি সম্পর্কে যে ধারণা হল সেটি হল,এটা একটি বড় গ্রাম।এই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষের পেশা ব‍্যবসা।এই গ্রামে সব রকম জাতির বাস রয়েছে। এই গ্রামে বড় একটি সবজি হাট হয়।এই গ্রামের এক পাশ দিয়ে ভৈরব নদী কুলকুল করে বয়ে গেছে।
         বীরেশ এবার রেজলা পাড়ার ভিতর দিয়ে স্বরূপপুর বাস স্ট‍্যান্ডে এসে দাঁড়াল।তরতিপুর থেকে বেরনোর সময় বীরেশের মনে পড়ে গেল যে,কলেজে তাদের সঙ্গে চামেলি নাম্নী একটি মেয়ে পড়ত।দেখতে সে খুব না হলেও মোটামুটি সুন্দরী ছিল।কালো মানুষ সে পছন্দ করত না।কালো মানুষ দেখলে তার ভয় করে বলত।পড়তে পড়তে তার বিয়ে হয়ে গেছে।বিয়েতে চামেলি বীরেশকে কার্ড করেছিল।ইনভাইটেশন কার্ড।এবং বারবার করে আসতে বলেছিল,"বীরেশ,অবশ্য অবশ্যই তুমি এসো।"
        উত্তরে বীরেশ বলেছিল,"সে তো হল। কিন্তু কিভাবে যাবো?"
       "কেন?"
      বীরেশ বলেছিল,"তোমাদের গ্রাম চিনি না যে।"
       শুনে চামেলি এক রকম আশ্চর্যই হয়েছিল,"সে কি!রেজলা পাড়া চেনো না?"
       হাস‍্য মুখে বীরেশ জানিয়েছিল,"আসলে কোন দিন ওদিকে যাইনি তো।তাই চিনি না।"
       চামেলি তখন বলেছিল,"লোকেশন বলে দিলে চিনতে পারবে?"
       "বলো।"
       চামেলি বলেছিল,"তরতিপুরের পরে হল রেজলা পাড়া গ্রাম।তুমি প্রথমে তরতিপুর যাবে। ওখানে কাউকে রেজলা পাড়ার রাস্তা জিজ্ঞেস করে জেনে নেবে।তারপর গ্রামে এসে আমার নাম যাকে জিজ্ঞেস করবে সেই বাড়ি দেখিয়ে দেবে। তুমি এসো কিন্তু।"
         কলেজ জীবনের সেই পুরনো কথাটি হঠাৎ মনে পড়ে গেলে বীরেশ ভাবল,চামেলিদের বাড়িটি একবার দেখে যাবে।এবং ওখানে সে একটি মুরব্বি মানুষকে দেখতে পেয়ে তাকে রেজলা পাড়া যাওয়ার রাস্তা জিজ্ঞেস করল,"চাচা,রেজলা পাড়া যাওয়ার  রাস্তা কোনটা বলতে পারেন?"
         "এটাই তো রেজলা পাড়া যাওয়া রাস্তা।"সেই মুরব্বিটি বলল।
         ওই রাস্তা ধরে বীরেশ এবার রেজলা পাড়া চলে এসে গ্রামের এক জনকে জিজ্ঞেস করে চামেলিদের বাড়িটি বাইরে থেকে দেখে নিয়ে চলে এলো। চামেলির বিয়েতে বীরেশের আসা হয়েছিল না। মনে পড়ে  যাওয়ায় বীরেশ চামেলিদের বাড়ির ভিতর ঢুকল না।
       এখানে এসে বীরেশ তার হাত ঘড়িটির দিকে তাকাল।টাইম দেখল।এখন দুপুর একটা।খাওয়া দরকার।কিন্তু পুরো বাস স্ট‍্যান্ড চত্বর ঘুরে বীরেশ কোথাও ভাতের হোটেল পেল না। একটি মিষ্টির দোকানে ঢুকে সে দুটি মিষ্টি ও শিঙ্গাড়া খেয়ে জল খেল।তারপর বেরিয়ে এসে একটি বন্ধ চায়ের দোকানের খালি বেনচে বসল। তার এখন ঘুম পাচ্ছে।বাড়ি হলে ঘুমিয়ে পড়ত। কিন্ত এখানে ফাঁকা জায়গা বলে বীরেশ ঘুমলো না।পকেট থেকে স্মার্টফোনটা বের করে ফেসবুকে দেখল,ছাপ্পান্ন জন তাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে। বীরেশ তাদের মধ্যে চামেলিও রয়েছে দেখল। চামেলি বাদে বীরেশ কারও ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট এ্যাকসেপ্ট করল না। এরপর ফোনটা পকেটে ভরে রেখে বীরেশ ভাবল,গল্পের প্লট এখনো তার মাথায় এলো না।গল্পের প্লট মাথায় না এলে সে বাড়িও যাবে না।এই ভাবে সাইকেলে সাইকেলে গ্রাম ঘুরে বেড়াবে।তার প্রিয় নেশা যে গল্প লেখা। সে তার প্রিয় নেশার পিছনে পিছনে ছুটে বেড়াবে।মানুষ নেশায় মত্ত হয়ে অনেক কিছু করে। অনেক জায়গায় ছুটে। প্রয়োজনে বীরেশও তাই করবে।পথকে তার ঘর করে নেবে। পৃথিবীর সব মোহ  ত‍্যাগ করে সে তার নেশার পিছনে ছুটবে।গল্প না লিখতে পারলে সে যে বাঁচবে না। গল্পই যে তার ধ‍্যান,জ্ঞান, চিন্তা।গল্পই যে তার জীবন।সুতরাং গল্পই যদি সে লিখতে না পারে সে তাহলে ঘরে ফিরে আর কি করবে?ঘরে বসে বসে সে তো গল্প লেখে আর গল্প পড়ে।
         তার অনেক বন্ধু আছে চাকরি পায়নি।কিন্তু বীরেশের মতো তারা কেউ বেরোজগেরে নয়। প্রাইভেট পড়িয়ে তারা মাসে অনেক টাকা রোজগার করে। ইচ্ছে করলে বীরেশও পড়াতে পারে।কিন্তু সে কখন পড়াবে?লেখা নিয়েই তো বেশিরভাগ সময় ব‍্যস্ত থাকে।বীরেশ লেখাকে এত বেশি ভালোবাসে যে বিয়ে সে করতেই চায়না। লেখার সঙ্গে তার নাকি বিয়ে হয়ে গেছে। সে জানে যে,বিয়ে করলে পরে সে আর লিখতে পারবে না। কলুর বলদের মতো সংসারের ঘানি টানতে হবে।টানতে টানতে সে ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়বে। তার কি দরকার?তার থেকে সে বিয়ে করবে না। যেমন আছে তেমন থাকবে।আর লেখালেখি করে জীবন কাটিয়ে দেবে।বেশ কিছু গল্প তার প্রকাশ হয়েছে। আর কিছু গল্প প্রকাশ হওয়া পর গল্পের একটি বই সে বের করবে।তার ইচ্ছা আছে।বড় গল্পকার সে হতে পারুক বা না পারুক ।তার গ্রামের মানুষ তো জানবে যে,গ্রামের আর কোন মানুষ গল্প লিখতে পারে না।কিন্তু বীরেশ পারে। সকলের নয়,তার গল্প পড়ে কিছু মানুষের ভালো লাগলেই তার জীবন ধন‍্য।আর তার কিছু চায়না।কথা গুলো ভেবে বীরেশ এক রকম প্রেরণা পেল।হতাশা দূর হল।
         সামনে তার  পিচ রোড।তবে রোডের অবস্থা যে খুব ভালো বীরেশের সেটা মনে হল না।জায়গা জায়গা চটে গিয়ে পাথর উঠে পালিয়ে গেছে।ও গর্ত।এই রোডে গাড়ি চালানো চালকের কাছে খুব কষ্টের।
         রোডের ওপারে যাত্রী প্রতীক্ষালয়।বীরেশের চোখ দুটি আপনি ওদিকে চলে গেল। ভিতরে সে দেখতে পেল সাদা পোশাক পরিহিতা একটি মেয়ে  বসে রয়েছে। সিমেন্টর বেনচে পা ঝুলিয়ে। খয়েরি রংয়ের একটি চামড়ার ব‍্যাগ তার জানুর উপর রাখা।আর তার হাত দুটি ব‍্যাগের উপর।বীরেশের চোখে মেয়েটি অনিন্দ্য সুন্দর এবং রূপসী বলে মনে হল।কিন্তু মেয়েটি কি জানে,বীরেশের চোখে সে যতটা সুন্দর বলে মনে হল সে ততটা সুন্দর কি? বোধহয় না।কারণ হরিণ নিজে যেমন জানেনা তার চোখ দুটি কত সুন্দর।
        মেয়েটিকে দেখার পর বীরেশ বুঝতে পারল যে,সে তার দিকে তাকানোর আগে থেকেই মেয়েটি তাকাচ্ছে তার দিকে।বুঝতে পারা পর বীরেশ আর তাকাল না।অন‍্য দিকে তাকাল। এবং খানিক বাদে মেয়েটি এখন কোন দিকে তাকাচ্ছে দেখার জন্য তার দিকে আবার তাকাল। এমন ভাবে তাকাল মেয়েটি যাতে বুঝতে না পারে যে,সে তার দিকে তাকাল।দেখল,মেয়েটি তখনও তাকাচ্ছে তার দিকে।মিনিট পনেরো কেটে গেল এই ভাবে। মেয়েটির তাকানো তার দিকে তবু বন্ধ হল না। বীরেশের তখন মেয়েটিকে  পাগলী বলে মনে হল। পাগলী না হলে কোন মেয়ে পুরুষের দিকে এই ভাবে তাকায়?কে দেখল না দেখল কোন দিকে যে তার খেয়াল নেই।পরক্ষণে তার আবার অন‍্য কথা মনে হল,না না, পাগলী হবে কেন?পাগলীরা কি এত ফিটফাট হয়ে থাকে?পাগলীদের শরীরের প্রতি কোন যত্ন থাকে না।বীরেশ তখন মনের সঙ্গে কথা বলল ।তার আপন মনের সঙ্গে।এবং কথা বলা শেষ করে পরে সে ভাবল, সে ওখানে মেয়েটির পাশে গিয়ে বসবে।আলাপ করবে। জানতে চাইবে তার নাম।ফোন নম্বর।এবং সে কি করে।ইত্যাদি ইত্যাদি।তবে ভুল করে একবারও জিজ্ঞেস করবে না, সে তার দিকে তাকাচ্ছিল কেন?ভাবলেও বীরেশের সাহসে কুলালো না।প্রায় চল্লিশ মিনিট সে ঠাঁয় বসে রইল।দক্ষিণ দিক থেকে তখন একটি বাস এসে দাঁড়াল।মেয়েটি বাসে উঠে পড়ল।এবং জানলার ধারে বসে ফের তাকাতে শুরু করল। বীরেশও তাকাল।মেয়েটি তখন একটি চিরকুট লিখে জানলা দিয়ে বীরেশের দিকে ফেলে দিল। কিন্তু বীরেশের দিকে পড়ল না।হাওয়ায় উড়তে উড়তে গিয়ে বাসের তলায় ঢুকে গেল।বাস না যাওয়া পর্যন্ত তাতে কি লেখা আছে দেখা যাবে না।ঘড়ি ধরে বাস পাঁচ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকল। তারপর স্টপেজ ছেড়ে চলে গেলে বীরেশ উঠে গিয়ে ওটা কুড়িয়ে আনল। দশটি সংখ্যা ছাড়া চিরকুটে আর কিছু লেখা নেই।সংখ‍্যা দশটি দেখে বীরেশের ওটা মেয়েটির ফোন নম্বর বলে মনে হল।তারমানে মেয়েটি ইচ্ছা করে তাকে ফোন নম্বর দিয়ে গেল। বীরেশ তাকে ফোন করলে করতে পারে।না আজ আর নয়,দু'-দিন বাদে রাতে বীরেশ তাকে ফোন করবে।
         ওটা পকেটে ভরে রেখে পরে বীরেশ বুঝতে পারল যে,তার মনের কথাটাই সত্যি হল।মেয়েটি তার ভালোলাগা থেকেই তাকাচ্ছিল তার দিকে।তার চাহনিতে প্রচুর প্রশ্রয় ছিল।বীরেশ তার কাছে গেলে পরে সে তাকে ফিরিয়ে দিত না। ভালোবাসার মখমলে তাকে জড়িয়ে রেখে দিত যত্ন করে।বীরেশ তারপর বুকে হঠাৎ ব‍্যথা অনুভব করল।গল্পের একটি প্লটও অমনি তার মাথায় চলে এলো চট করে।গল্পটি প্রেমের। বীরেশ ঠিক করল, গল্পটি লিখে সে তার নাম দিবে 'মেয়েটি'। সুতরাং বসে আর কি করবে? বাড়ি ফিরে সে আজকেই গল্পটি লিখে ফেলবে। জোরে সাইকেল চালাতে শুরু করল।


Sunday, September 1, 2019

পলাশ প্রধানের লেখা কবিতা

স্মৃতি প্রেম ও বৃষ্টি

পলাশ প্রধান 

লগ্নজিতা ব্যালকনিতে সকাল বেলার বৃষ্টি 
চায়ের কাপে আড্ডা গল্প আর মিষ্টি খুনসুটি। 
বৃষ্টি দিনে অজুহাতে কাজের থেকে নেব ছুটি 
কতদিন পর আবার তুই আমি একসঙ্গে দুটি। 
এসব সবই কল্পনাতে সত্যি আর এমন হয় না 
তবু তোকে নিয়ে আমার হাজার রকম ভাবনা। 

মনখারাপের বৃষ্টি আসে ভিজে জানলার কাঁচে 
শব্দেরা কবিতায় উষ্ণতা চায় স্মৃতি প্রেম আঁচে। 
স্মৃতির ঝাঁপি থেকে মুহূর্তরা একে একে করে ভিড় 
আমার ক্লাশের লগ্নজিতা শান্ত লাজুক প্রকৃতির । 
সাহস পেতাম না ভালোবাসি বলব ভাবতাম রোজ 
শেষমেশ একদিন চিরকূট লিখে তোকে প্রপোজ। 

জানি ফিরে আসা আর কোনোদিন তোর সম্ভব নয় 
তবু আমার চেতনা জুড়ে তুই, আমি আজও তুইময়। 
বৃষ্টি পড়ে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টিতে খুঁজি পারিনি ভুলতে 
লগ্নজিতা তুই এভাবেই থাকিস আমারই স্মৃতিতে। 
খবর জানি না তোর থাকিস এখন কোন বিদেশে 
পরের জন্মে আমরা দুজন থাকব আজীবন পাশে।। 


বটু কৃষ্ণ হালদারের লেখা

যৌন বিকৃতি শব্দের ভাবগত উৎপত্তি

বটু কৃষ্ণ হালদার

যৌনবিকৃতি আসলে কি বা এর সঠিক সংজ্ঞা কি হতে পারে তা নিয়ে বিতর্কে শেষ নেই। তবে যৌন বিকৃতি কে মানসিক বিকৃতির কাতারে ফেলা হবে নাকি কোন সাধারন রোগের পর্যায়ে ফেলা হবে নাকি কোন রোগ ধরা হবে না, কারণ এতে তো কোন মানুষের ক্ষতি হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান,psychiatric association (APO) "diagnostic and statistical manual of mental disorders (DSM)"এবং আন্তর্জাতিকভাবে চিকিৎসাবিদ্যায় ব্যবহূত"international classification of diseases (ICD) তে যৌন বিকৃতির কোন পরম বা চূড়ান্ত সংজ্ঞা নেই। যৌন বিকৃতি কত প্রকার এটা সঠিক ভাবে বিশ্লেষণ করা মুশকিল আবার অন্যদিকে ভারতের এক গবেষণায় ৫৪৯ রকমের যৌন বিকৃতির তালিকা পাওয়া গেছে। ২০১৩ সালের ১৮ই মে যুক্তরাষ্ট্রের APO"diagnostic and statistical manual of mental disorders" _5(DSM) নামের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ওখানে মাত্র ৮ প্রকার যৌন উত্তেজনাকে যৌন বিকৃতির তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।যৌন বিকৃতির অনেক শ্রেণী বিভাগ ও উপবিভাগ আছে যদি এসব যৌন গবেষণায় সবগুলোকে যৌনবিকৃতি বলা হয় না।
যৌনবিকৃতি হল এমন এক প্রকার যৌন তা যে একজন মানুষের কোন একটি জিনিস দেখে, কোন এক বিশেষ পরিস্থিতিতে পড়লে, মলমূত্র দেখে বা কোন গাছ পশুপাখি বা মানুষ ছাড়া অন্য কোন প্রাণী দেখে যৌন উত্তেজনা ওঠা ।এই ধরনের যৌন উত্তেজনা র যৌন তাকে"sexual fetishism"বলে। যৌনবিদ্যা রা "unusual sexual interestes"এবং এই যৌন বিকৃতি কে একই ধরনের বলে অভিহিত করেছেন।যেমন ,যদি কোন ব্যক্তি বৃক্ষ কে দেখে যৌন উত্তেজনা লাভ করেন তাহলে সেটা হবে"unusual sexual interest"বা ও সচরাচর যৌন আগ্রহ বা যৌন বিকৃতি।
মানুষ নয় এমন কোন ব্যক্তি প্রাণীর বা কোন উদ্ভিদের প্রতি যৌন আকর্ষণ আসা কোন যৌন কর্মের মাধ্যমে নিজেকে বা নিজের সঙ্গীকে শারীরিক মানসিক কষ্ট দেওয়া, অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি যৌন উত্তেজনা আসার নাম হলো যৌন বিকৃতি।যৌনবিকৃতি শব্দটির উৎপত্তি নিয়ে সঠিক কিছু বলা যায় না। কারণ যৌনতা নিয়ে মানব সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি যুগে যুগে পাল্টেছে, তাছাড়া একটি যৌনতাকে সব মানুষের অস্বাভাবিক নাও লাগতে পারে।যেমন কোন মানুষ যদি তার সঙ্গীর মলদ্বারের গন্ধ শোঁকে তাহলে এই প্রবৃত্তিকে অনেকে যৌনবিকৃতি বলবেন, কারণ মলদ্বার দিয়ে মল বের হয় বা পায়খানার গন্ধ প্রায়ই থাকে আবার অনেকে বলবেন কারণ এতে যৌনানন্দ আছে। নিউজিল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী যৌন বিজ্ঞানী উইলিয়াম মানি সর্বপ্রথম ইংরেজি শব্দ"paraphilia"কে জনপ্রিয় করেন ও সচরাচর যৌন আগ্রহের জন্য একটি আলাদা শব্দ রাখার জন্য তিনি "প্যারাফিলিয়া" কে সমাজবিরোধী এবং অপ্রয়োজনীয় যৌনতা বলে আখ্যায়িত করেন। উনবিংশ শতকের শেষের দিকে মনোবিদ ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন প্রকারের যৌন বিকৃতির সংজ্ঞা এবং শ্রেণীবিভাগ বানানো শুরু করেন ।কারণ তারা রাষ্ট্রীয় এবং "ধর্মীয় পায়ুকাম" আইন ও "কামুকতা আইন" থেকে ব্যতিক্রম কিছু দেখাতে চাইছিলেন। আমেরিকান"psychiatric association (APA) দ্বারা তৈরি"diagnostic and statistical manual of mental disorders"_3(১৯৮০) তে যৌন বিকৃতির ইংরেজি প্রতিশব্দ"paraphilia"পরিবর্তে "সেক্সুয়াল ডিভায়েশন"বা লুচ্চামি শব্দটি ব্যবহার করেন।১৯৮১ সালে"American journal of psychiatric"নামক ম্যাগাজিনে যৌনবিকৃতি কে অস্বাভাবিক ও অসচরাচর অপ্রয়োজনীয়তা বলে আখ্যায়িত করেন।
বিকৃত যৌন রুচি সম্পন্ন একজন সঙ্গীর চাইতে অশান্তির আর কিছুই হতে পারে না জীবনে।একজন ভুক্তভোগী নারীই শুধু মাত্র জানেন একজন বিকৃত রুচির স্বামী বা প্রেমিকের সংস্পর্শ কি ভয়ানক হতে পারে। আজকাল ভয়ানক হারে বাড়ছে ধর্ষণ ,শিশুকে যৌন হয়রানি, এমনকি শিশু নির্যাতনের ঘটনা ।এসব কর্ম আমাদের আশেপাশের একান্ত পরিচিত মানুষ গুলোই করছে এসব কাজ।তাই নিজেকে নিরাপদ রাখতে কিংবা নিজের সন্তানদের ও আপনজনদের নিরাপত্তার খাতিরে হলেও বিকৃত রুচির পুরুষদের চিহ্নিত করে তাদের থেকে দূরত্বের ব্যবধান সৃষ্টি করা।
যৌন বিকৃতি বলতে এমন সব যৌন কর্মকাণ্ডের প্রতি আকর্ষণ অথবা এ সকল কর্মকান্ডের ঘটনা বোঝায়। যেগুলো স্বাভাবিক নয়। কোন যৌন ক্রিয়া স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক তা নির্ধারিত হয় তিনটি পর্যায়ে। এগুলো হলো, ১) ধর্ম, ২), স্থানীয় আইন, ৩) সামাজিক রুচি। ধর্ম ব্যতীত বাকি দুটি বিষয় নিয়ামক যেহেতু চলমান বা পরিবর্তনশীল তাই যৌন বিকৃতির সংজ্ঞা পরমও চূড়ান্ত নয়। এক সময় সমকামিতা দেশের আইনে অবৈধ ছিল। ১৯৮০ সালে এটি আইনসিদ্ধ করে বৌদ্ধ যৌন ক্রিয়া হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে।


সুজিত কুমার পালের কবিতা

শরৎ এলো দ্বারে


সুজিত কুমার পাল

কাশফুলেতে লাগল নাচন শিউলি ঝরা প্রাতে,
মনের আকাশ হল মেদুর শুভ্র মেঘের সাথে।
শরৎ এলো পথে ঘাটে পড়ল কাঠি ঢাকে,
অন্ধ ঘরের বন্ধ দ্বারে আর কে কারে রাখে।
শরৎ তুমি প্রাণের আবেগ তোমায় মনে রাখি,
তোমার কথা তোমার গানে  উঠলো ডেকে পাখি।
হিমের পরশ লাগল হাওয়ায় চোখে নতুন আলো,
মন্দিরে মা আসবে এবার জ্বালো প্রদীপ জ্বালো।
নদীর তীরে হালকা হাওয়ায় শুভ্র পরী দোলে,
শরৎ এলো শরৎ এলো বাংলা মায়ের কোলে।
আকাশ পাড়ে হলো পাগল সাদা মেঘের ভেলা,
খুশির জোয়ার লাগল বুকে সবুজ হল বেলা।
মন পবনে ছড়িয়ে দিলাম আগমনীর সুর, 
আসছে ঘরে দুগ্গা ঠাকুর ভরবে অন্তঃপুর।
ধূপের গন্ধে উঠলো ভরে সাধের সন্ধ্যা বেলা,
মনের কালো গেল দূরে এলো মিলন মেলা।
এসো মাগো সবার ঘরে দুঃখ মুছে দিও,
ভক্তি শুধু আছে প্রাণে সেইটুকু মা নিও। 
কষ্ট নিয়ে ম্লান মুখে দাঁড়িয়ে আছে যারা,
ভুলিয়ে দিও দুঃখ তাদের যারা জীবনহারা।


সব্যসাচী নজরুলের কবিতা

দাদার সিন্ডিকেট 
সব্যসাচী নজরুল

হাতে কি
দেখা দেখি
বলে একি!
বেড়া সরা
বস্তা ভরা
কাঁচা চামড়া।
নাই টিকেট
কি তাতে
দিনে রাতে
চলছে রকেট
দাদার সিন্ডিকেট
দাদার সিন্ডিকেট।
আছে কতই
দাদার মতই
এ কারবার
কে করে আর।
যা ওপারে
যা ওপারে।
শালা দামড়া
আছি আমরা
রাত পাহারায়
জলদি আয়।
করে ছক
এতিমের হক
সোনার ছেলে
দু'পা মেলে
আরামে খায়
বসে কেদারায়।


জয়ীতা চ্যাটার্জীর লেখা

পথ ভুলে

জয়ীতা চ্যাটার্জী

অনেক দূর এসে গেছি পায়ে পায়ে, 
জানি ফিরতে হবে, মানচিত্র আঁকা আছে
 ভাঙা পাঁচিলের গায়ে। 
পুরনো প্রাসাদ বাড়ির রাস্তা ছেড়ে চলে গেছি অনেক দূর, 
প্রতিটা খিলানের নীচে চাপা পড়েছে আবেগ, 
কাঠের টুকরোর মতো ছড়ানো ছেটানো সুর। 
পাশ কাটিয়ে চলে গেছে সবাই পথ খুঁজে, 
চেনা পথে অচেনা আমি, 
জেগে থাকি মজা দিঘির মতো সময়গুলো বুঝে। 
পিছলে গেলে ফেরা কি যায়?
নিজে নিজেই জিজ্ঞেস করি শেষে, 
সে চেনা জায়গা আমার আপন খুব
তবুও কাছে যেতে পারি না, 
দরদর করে ঘেমে যাচ্ছি কেবল চেষ্টা করে  এসে।।