Sunday, September 1, 2019

বটু কৃষ্ণ হালদারের লেখা

যৌন বিকৃতি শব্দের ভাবগত উৎপত্তি

বটু কৃষ্ণ হালদার

যৌনবিকৃতি আসলে কি বা এর সঠিক সংজ্ঞা কি হতে পারে তা নিয়ে বিতর্কে শেষ নেই। তবে যৌন বিকৃতি কে মানসিক বিকৃতির কাতারে ফেলা হবে নাকি কোন সাধারন রোগের পর্যায়ে ফেলা হবে নাকি কোন রোগ ধরা হবে না, কারণ এতে তো কোন মানুষের ক্ষতি হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান,psychiatric association (APO) "diagnostic and statistical manual of mental disorders (DSM)"এবং আন্তর্জাতিকভাবে চিকিৎসাবিদ্যায় ব্যবহূত"international classification of diseases (ICD) তে যৌন বিকৃতির কোন পরম বা চূড়ান্ত সংজ্ঞা নেই। যৌন বিকৃতি কত প্রকার এটা সঠিক ভাবে বিশ্লেষণ করা মুশকিল আবার অন্যদিকে ভারতের এক গবেষণায় ৫৪৯ রকমের যৌন বিকৃতির তালিকা পাওয়া গেছে। ২০১৩ সালের ১৮ই মে যুক্তরাষ্ট্রের APO"diagnostic and statistical manual of mental disorders" _5(DSM) নামের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ওখানে মাত্র ৮ প্রকার যৌন উত্তেজনাকে যৌন বিকৃতির তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।যৌন বিকৃতির অনেক শ্রেণী বিভাগ ও উপবিভাগ আছে যদি এসব যৌন গবেষণায় সবগুলোকে যৌনবিকৃতি বলা হয় না।
যৌনবিকৃতি হল এমন এক প্রকার যৌন তা যে একজন মানুষের কোন একটি জিনিস দেখে, কোন এক বিশেষ পরিস্থিতিতে পড়লে, মলমূত্র দেখে বা কোন গাছ পশুপাখি বা মানুষ ছাড়া অন্য কোন প্রাণী দেখে যৌন উত্তেজনা ওঠা ।এই ধরনের যৌন উত্তেজনা র যৌন তাকে"sexual fetishism"বলে। যৌনবিদ্যা রা "unusual sexual interestes"এবং এই যৌন বিকৃতি কে একই ধরনের বলে অভিহিত করেছেন।যেমন ,যদি কোন ব্যক্তি বৃক্ষ কে দেখে যৌন উত্তেজনা লাভ করেন তাহলে সেটা হবে"unusual sexual interest"বা ও সচরাচর যৌন আগ্রহ বা যৌন বিকৃতি।
মানুষ নয় এমন কোন ব্যক্তি প্রাণীর বা কোন উদ্ভিদের প্রতি যৌন আকর্ষণ আসা কোন যৌন কর্মের মাধ্যমে নিজেকে বা নিজের সঙ্গীকে শারীরিক মানসিক কষ্ট দেওয়া, অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি যৌন উত্তেজনা আসার নাম হলো যৌন বিকৃতি।যৌনবিকৃতি শব্দটির উৎপত্তি নিয়ে সঠিক কিছু বলা যায় না। কারণ যৌনতা নিয়ে মানব সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি যুগে যুগে পাল্টেছে, তাছাড়া একটি যৌনতাকে সব মানুষের অস্বাভাবিক নাও লাগতে পারে।যেমন কোন মানুষ যদি তার সঙ্গীর মলদ্বারের গন্ধ শোঁকে তাহলে এই প্রবৃত্তিকে অনেকে যৌনবিকৃতি বলবেন, কারণ মলদ্বার দিয়ে মল বের হয় বা পায়খানার গন্ধ প্রায়ই থাকে আবার অনেকে বলবেন কারণ এতে যৌনানন্দ আছে। নিউজিল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী যৌন বিজ্ঞানী উইলিয়াম মানি সর্বপ্রথম ইংরেজি শব্দ"paraphilia"কে জনপ্রিয় করেন ও সচরাচর যৌন আগ্রহের জন্য একটি আলাদা শব্দ রাখার জন্য তিনি "প্যারাফিলিয়া" কে সমাজবিরোধী এবং অপ্রয়োজনীয় যৌনতা বলে আখ্যায়িত করেন। উনবিংশ শতকের শেষের দিকে মনোবিদ ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন প্রকারের যৌন বিকৃতির সংজ্ঞা এবং শ্রেণীবিভাগ বানানো শুরু করেন ।কারণ তারা রাষ্ট্রীয় এবং "ধর্মীয় পায়ুকাম" আইন ও "কামুকতা আইন" থেকে ব্যতিক্রম কিছু দেখাতে চাইছিলেন। আমেরিকান"psychiatric association (APA) দ্বারা তৈরি"diagnostic and statistical manual of mental disorders"_3(১৯৮০) তে যৌন বিকৃতির ইংরেজি প্রতিশব্দ"paraphilia"পরিবর্তে "সেক্সুয়াল ডিভায়েশন"বা লুচ্চামি শব্দটি ব্যবহার করেন।১৯৮১ সালে"American journal of psychiatric"নামক ম্যাগাজিনে যৌনবিকৃতি কে অস্বাভাবিক ও অসচরাচর অপ্রয়োজনীয়তা বলে আখ্যায়িত করেন।
বিকৃত যৌন রুচি সম্পন্ন একজন সঙ্গীর চাইতে অশান্তির আর কিছুই হতে পারে না জীবনে।একজন ভুক্তভোগী নারীই শুধু মাত্র জানেন একজন বিকৃত রুচির স্বামী বা প্রেমিকের সংস্পর্শ কি ভয়ানক হতে পারে। আজকাল ভয়ানক হারে বাড়ছে ধর্ষণ ,শিশুকে যৌন হয়রানি, এমনকি শিশু নির্যাতনের ঘটনা ।এসব কর্ম আমাদের আশেপাশের একান্ত পরিচিত মানুষ গুলোই করছে এসব কাজ।তাই নিজেকে নিরাপদ রাখতে কিংবা নিজের সন্তানদের ও আপনজনদের নিরাপত্তার খাতিরে হলেও বিকৃত রুচির পুরুষদের চিহ্নিত করে তাদের থেকে দূরত্বের ব্যবধান সৃষ্টি করা।
যৌন বিকৃতি বলতে এমন সব যৌন কর্মকাণ্ডের প্রতি আকর্ষণ অথবা এ সকল কর্মকান্ডের ঘটনা বোঝায়। যেগুলো স্বাভাবিক নয়। কোন যৌন ক্রিয়া স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক তা নির্ধারিত হয় তিনটি পর্যায়ে। এগুলো হলো, ১) ধর্ম, ২), স্থানীয় আইন, ৩) সামাজিক রুচি। ধর্ম ব্যতীত বাকি দুটি বিষয় নিয়ামক যেহেতু চলমান বা পরিবর্তনশীল তাই যৌন বিকৃতির সংজ্ঞা পরমও চূড়ান্ত নয়। এক সময় সমকামিতা দেশের আইনে অবৈধ ছিল। ১৯৮০ সালে এটি আইনসিদ্ধ করে বৌদ্ধ যৌন ক্রিয়া হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে।


No comments:

Post a Comment