মেয়েটি
আবদুস সাত্তার বিশ্বাস
"মেয়েটি বারবার তাকাচ্ছে কেন আমার দিকে, বলতে পারো?"
"তোমাকে চেনে হয়তো।অথবা এমনও হতে পারে তোমার মতো দেখতে তার কোন বন্ধু আছে। তুমি তার সেই বন্ধু কিনা দেখছে।"
"তাহলে সে কাছে এসে আমার সঙ্গে কথা বলে দেখুক।ওভাবে না তাকিয়ে।আমার ভীষণ অস্বস্তি লাগছে।"
"মানুষের মতো মানুষ তো থাকে।কাছে এসে দেখল,তুমি তার সেই বন্ধু নও।তখন ও লজ্জা পাবে না?তাই বারবার তাকাচ্ছে।এতে তোমার অস্বস্তি লাগার কিছু নেই।তুমিও তাকাও না?"
"মেয়েদের দিকে তাকাতে আমার লজ্জা করে।আচ্ছা,মেয়েটির তাকানোর কি আর কোন কারণ থাকতে পারে?"
"একটি মানুষ একটি মানুষের দিকে অনেক কারণেই তাকায়।তাকায় বলে তাকে খারাপ ভাবা যাবেনা। ভাবাটা কিন্তু অন্যায়।"
"না না, আমি খারাপ ভাবছি না।আমি শুধু জানতে চাইছি।"
" বুঝতে পেরেছি আমি তোমার কথা।আমি তোমাকে এমনি বললাম।হ্যাঁ, মেয়েটি তোমার দিকে যে যে কারণে তাকাচ্ছে বলে আমার ধারণা, তার মধ্যে প্রথম কারণ হল,ভালো লাগা।কোন মানুষের চোখে যখন কোন জিনিস ভালো লাগে সেই মানুষ সেই জিনিসটির দিকে কিন্তু বারবার তাকায়।দেখে যেন তার ইচ্ছে পূরণ হয় না। মেয়েটির হয়তো তোমাকে সেই রকম ভালো লেগেছে।ভাবছে, তুমি তার মনের মানুষ হলে খুব ভালো হয়।ধরে নেওয়া যেতে পারে, মেয়েটি বারবার তোমার দিকে তাকানোর এটা একটি প্রধান কারণ।কোন যুবক যখন বারবার একটি মেয়ের দিকে তাকায় তখন কিন্তু তার তাকানোর মধ্যে ভালো লাগাটাই কাজ করে।অর্থাৎ সেই মেয়েটিকে দেখতে তার ভালো লাগে বলেই বারবার তাকায়।বোঝা গেল?"
"গেল। কিন্ত মেয়েটি যে তার ভালো লাগা থেকে তাকাচ্ছে এটা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না।"
" বিশ্বাস না হওয়ার কারণ?"
"মেয়েটি কিন্তু অতীব সুন্দরী।আমার মতো বেকার যুবককে সে পছন্দ করবে কেন?তাই আমার বিশ্বাস হচ্ছে না।"
"মানুষের এই নেগেটিভ চিন্তা করাটাই খারাপ।এরকম চিন্তা যারা করে আমি তাদের পছন্দ করিনা।তুমি যে বেকার যুবক এখানে তুমি আর আমি ছাড়া কে জানে?মেয়েটি জানে?আর তাছাড়া মেয়েটি না হয় সুন্দরী হল।তুমি সুন্দর নও? মেয়েটির থেকে তুমি দেখতে কম কিসে? তোমার যেমন হাইট তেমনি সলিড বডি।প্রশস্ত বুক।মাথা ভর্তি কালো চুল।এই যে তুমি এখানে সাদা প্যান্ট-শার্ট আর কালো সু পরে রয়েছ দেখে তোমাকে বলিউডের হিরো ছাড়া কে বলবে শুনি! শুধু ওই মেয়েটি কেন?আরো অনেক মেয়েই বারবার তাকাবে তোমার দিকে।এবং তোমার সঙ্গে ডেটিংয়ে যেতে চাইবে।"
" এছাড়া আর কি কারণ থাকতে পারে?"
" কারণ তো অনেকই আছে।তবে মেয়েটির তোমার দিকে তাকানোর কারণ এখন এটাই। ভালো লাগা।"
এতক্ষণ ধরে বীরেশ তার মনের সঙ্গে কথা বলল।বীরেশ লেখালেখি করে।কিন্তু কিছু দিন থেকে একটিও গল্প সে লিখতে পারেনি। গল্পের প্লট মাথায় আসেনি।গল্পের প্লট মাথায় না এলে বীরেশ লিখতে পারে না।কেউ কেউ অবশ্য মাথা খাটিয়ে যেকোন সময় গল্প লিখে ফেলতে পারে। বীরেশ পারে না।তার মাথায় গল্পের প্লট স্বত:স্ফূর্ত ভাবে না এলে সে লিখতে পারেনা। একেক জন একেক রকম।তবে বীরেশকে গল্পের প্লটের জন্য কোন দিন ভাবতে হয়নি।স্বত:স্ফূর্ত ভাবেই তার মাথায় প্লট এসেছে।সে তখন সেই প্লটের উপর গল্প লিখেছে। কিন্তু এবার আসছে না কেন?তাহলে কি যৌবন চলে যাওয়ার মতো লেখা তার কাছ থেকে চলে গেল?
গল্পের উৎসই হল গ্রাম।তাই গল্প লিখতে হলে নাকি গ্রাম ঘুরতে হয়।গ্রামের মানুষের সুখ-দুঃখ উপলব্ধি করতে হয়।বীরেশের সে রকম মনে হলে পরে সে গ্রাম ঘুরতে বেরিয়ে পড়ল।ঘাড়ে বড় ফিতা অলা কাপড়ের কালো ব্যাগটা ঝুলিয়ে বাই সাইকেল নিয়ে। গ্রাম ঘুরতে ঘুরতে যদি গ্রামের কোন কিছু দেখে মাথায় প্লট আসে।
নদীর এপারে অনেক গ্রাম আছে।ওপারেও কম গ্রাম নেই।ছোট।বড়।এবং মাঝারি গ্রাম মিলে। এপারের গ্রাম গুলো সব ঘোরা না থাকলেও ঘোরা আছে।কিন্তু ওপারের গ্রাম গুলো ঘোরা নেই। বীরেশ তাই শ্যামপুরের ঘাট পার হয়ে ওপারে চলে গেল।প্রথমে যে গ্রাম পড়ল ওটার নাম রামকৃষ্ণ পুর।হিন্দু-মুসলিম উভয় জাতির বাস। মাঝারি গ্রাম।গ্রামটি ঘুরে বীরেশ এবার তরতিপুর গ্রামে এসে ঢুকল।এই গ্রাম ঘুরে বীরেশের মনে গ্রামটি সম্পর্কে যে ধারণা হল সেটি হল,এটা একটি বড় গ্রাম।এই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষের পেশা ব্যবসা।এই গ্রামে সব রকম জাতির বাস রয়েছে। এই গ্রামে বড় একটি সবজি হাট হয়।এই গ্রামের এক পাশ দিয়ে ভৈরব নদী কুলকুল করে বয়ে গেছে।
বীরেশ এবার রেজলা পাড়ার ভিতর দিয়ে স্বরূপপুর বাস স্ট্যান্ডে এসে দাঁড়াল।তরতিপুর থেকে বেরনোর সময় বীরেশের মনে পড়ে গেল যে,কলেজে তাদের সঙ্গে চামেলি নাম্নী একটি মেয়ে পড়ত।দেখতে সে খুব না হলেও মোটামুটি সুন্দরী ছিল।কালো মানুষ সে পছন্দ করত না।কালো মানুষ দেখলে তার ভয় করে বলত।পড়তে পড়তে তার বিয়ে হয়ে গেছে।বিয়েতে চামেলি বীরেশকে কার্ড করেছিল।ইনভাইটেশন কার্ড।এবং বারবার করে আসতে বলেছিল,"বীরেশ,অবশ্য অবশ্যই তুমি এসো।"
উত্তরে বীরেশ বলেছিল,"সে তো হল। কিন্তু কিভাবে যাবো?"
"কেন?"
বীরেশ বলেছিল,"তোমাদের গ্রাম চিনি না যে।"
শুনে চামেলি এক রকম আশ্চর্যই হয়েছিল,"সে কি!রেজলা পাড়া চেনো না?"
হাস্য মুখে বীরেশ জানিয়েছিল,"আসলে কোন দিন ওদিকে যাইনি তো।তাই চিনি না।"
চামেলি তখন বলেছিল,"লোকেশন বলে দিলে চিনতে পারবে?"
"বলো।"
চামেলি বলেছিল,"তরতিপুরের পরে হল রেজলা পাড়া গ্রাম।তুমি প্রথমে তরতিপুর যাবে। ওখানে কাউকে রেজলা পাড়ার রাস্তা জিজ্ঞেস করে জেনে নেবে।তারপর গ্রামে এসে আমার নাম যাকে জিজ্ঞেস করবে সেই বাড়ি দেখিয়ে দেবে। তুমি এসো কিন্তু।"
কলেজ জীবনের সেই পুরনো কথাটি হঠাৎ মনে পড়ে গেলে বীরেশ ভাবল,চামেলিদের বাড়িটি একবার দেখে যাবে।এবং ওখানে সে একটি মুরব্বি মানুষকে দেখতে পেয়ে তাকে রেজলা পাড়া যাওয়ার রাস্তা জিজ্ঞেস করল,"চাচা,রেজলা পাড়া যাওয়ার রাস্তা কোনটা বলতে পারেন?"
"এটাই তো রেজলা পাড়া যাওয়া রাস্তা।"সেই মুরব্বিটি বলল।
ওই রাস্তা ধরে বীরেশ এবার রেজলা পাড়া চলে এসে গ্রামের এক জনকে জিজ্ঞেস করে চামেলিদের বাড়িটি বাইরে থেকে দেখে নিয়ে চলে এলো। চামেলির বিয়েতে বীরেশের আসা হয়েছিল না। মনে পড়ে যাওয়ায় বীরেশ চামেলিদের বাড়ির ভিতর ঢুকল না।
এখানে এসে বীরেশ তার হাত ঘড়িটির দিকে তাকাল।টাইম দেখল।এখন দুপুর একটা।খাওয়া দরকার।কিন্তু পুরো বাস স্ট্যান্ড চত্বর ঘুরে বীরেশ কোথাও ভাতের হোটেল পেল না। একটি মিষ্টির দোকানে ঢুকে সে দুটি মিষ্টি ও শিঙ্গাড়া খেয়ে জল খেল।তারপর বেরিয়ে এসে একটি বন্ধ চায়ের দোকানের খালি বেনচে বসল। তার এখন ঘুম পাচ্ছে।বাড়ি হলে ঘুমিয়ে পড়ত। কিন্ত এখানে ফাঁকা জায়গা বলে বীরেশ ঘুমলো না।পকেট থেকে স্মার্টফোনটা বের করে ফেসবুকে দেখল,ছাপ্পান্ন জন তাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে। বীরেশ তাদের মধ্যে চামেলিও রয়েছে দেখল। চামেলি বাদে বীরেশ কারও ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট এ্যাকসেপ্ট করল না। এরপর ফোনটা পকেটে ভরে রেখে বীরেশ ভাবল,গল্পের প্লট এখনো তার মাথায় এলো না।গল্পের প্লট মাথায় না এলে সে বাড়িও যাবে না।এই ভাবে সাইকেলে সাইকেলে গ্রাম ঘুরে বেড়াবে।তার প্রিয় নেশা যে গল্প লেখা। সে তার প্রিয় নেশার পিছনে পিছনে ছুটে বেড়াবে।মানুষ নেশায় মত্ত হয়ে অনেক কিছু করে। অনেক জায়গায় ছুটে। প্রয়োজনে বীরেশও তাই করবে।পথকে তার ঘর করে নেবে। পৃথিবীর সব মোহ ত্যাগ করে সে তার নেশার পিছনে ছুটবে।গল্প না লিখতে পারলে সে যে বাঁচবে না। গল্পই যে তার ধ্যান,জ্ঞান, চিন্তা।গল্পই যে তার জীবন।সুতরাং গল্পই যদি সে লিখতে না পারে সে তাহলে ঘরে ফিরে আর কি করবে?ঘরে বসে বসে সে তো গল্প লেখে আর গল্প পড়ে।
তার অনেক বন্ধু আছে চাকরি পায়নি।কিন্তু বীরেশের মতো তারা কেউ বেরোজগেরে নয়। প্রাইভেট পড়িয়ে তারা মাসে অনেক টাকা রোজগার করে। ইচ্ছে করলে বীরেশও পড়াতে পারে।কিন্তু সে কখন পড়াবে?লেখা নিয়েই তো বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকে।বীরেশ লেখাকে এত বেশি ভালোবাসে যে বিয়ে সে করতেই চায়না। লেখার সঙ্গে তার নাকি বিয়ে হয়ে গেছে। সে জানে যে,বিয়ে করলে পরে সে আর লিখতে পারবে না। কলুর বলদের মতো সংসারের ঘানি টানতে হবে।টানতে টানতে সে ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়বে। তার কি দরকার?তার থেকে সে বিয়ে করবে না। যেমন আছে তেমন থাকবে।আর লেখালেখি করে জীবন কাটিয়ে দেবে।বেশ কিছু গল্প তার প্রকাশ হয়েছে। আর কিছু গল্প প্রকাশ হওয়া পর গল্পের একটি বই সে বের করবে।তার ইচ্ছা আছে।বড় গল্পকার সে হতে পারুক বা না পারুক ।তার গ্রামের মানুষ তো জানবে যে,গ্রামের আর কোন মানুষ গল্প লিখতে পারে না।কিন্তু বীরেশ পারে। সকলের নয়,তার গল্প পড়ে কিছু মানুষের ভালো লাগলেই তার জীবন ধন্য।আর তার কিছু চায়না।কথা গুলো ভেবে বীরেশ এক রকম প্রেরণা পেল।হতাশা দূর হল।
সামনে তার পিচ রোড।তবে রোডের অবস্থা যে খুব ভালো বীরেশের সেটা মনে হল না।জায়গা জায়গা চটে গিয়ে পাথর উঠে পালিয়ে গেছে।ও গর্ত।এই রোডে গাড়ি চালানো চালকের কাছে খুব কষ্টের।
রোডের ওপারে যাত্রী প্রতীক্ষালয়।বীরেশের চোখ দুটি আপনি ওদিকে চলে গেল। ভিতরে সে দেখতে পেল সাদা পোশাক পরিহিতা একটি মেয়ে বসে রয়েছে। সিমেন্টর বেনচে পা ঝুলিয়ে। খয়েরি রংয়ের একটি চামড়ার ব্যাগ তার জানুর উপর রাখা।আর তার হাত দুটি ব্যাগের উপর।বীরেশের চোখে মেয়েটি অনিন্দ্য সুন্দর এবং রূপসী বলে মনে হল।কিন্তু মেয়েটি কি জানে,বীরেশের চোখে সে যতটা সুন্দর বলে মনে হল সে ততটা সুন্দর কি? বোধহয় না।কারণ হরিণ নিজে যেমন জানেনা তার চোখ দুটি কত সুন্দর।
মেয়েটিকে দেখার পর বীরেশ বুঝতে পারল যে,সে তার দিকে তাকানোর আগে থেকেই মেয়েটি তাকাচ্ছে তার দিকে।বুঝতে পারা পর বীরেশ আর তাকাল না।অন্য দিকে তাকাল। এবং খানিক বাদে মেয়েটি এখন কোন দিকে তাকাচ্ছে দেখার জন্য তার দিকে আবার তাকাল। এমন ভাবে তাকাল মেয়েটি যাতে বুঝতে না পারে যে,সে তার দিকে তাকাল।দেখল,মেয়েটি তখনও তাকাচ্ছে তার দিকে।মিনিট পনেরো কেটে গেল এই ভাবে। মেয়েটির তাকানো তার দিকে তবু বন্ধ হল না। বীরেশের তখন মেয়েটিকে পাগলী বলে মনে হল। পাগলী না হলে কোন মেয়ে পুরুষের দিকে এই ভাবে তাকায়?কে দেখল না দেখল কোন দিকে যে তার খেয়াল নেই।পরক্ষণে তার আবার অন্য কথা মনে হল,না না, পাগলী হবে কেন?পাগলীরা কি এত ফিটফাট হয়ে থাকে?পাগলীদের শরীরের প্রতি কোন যত্ন থাকে না।বীরেশ তখন মনের সঙ্গে কথা বলল ।তার আপন মনের সঙ্গে।এবং কথা বলা শেষ করে পরে সে ভাবল, সে ওখানে মেয়েটির পাশে গিয়ে বসবে।আলাপ করবে। জানতে চাইবে তার নাম।ফোন নম্বর।এবং সে কি করে।ইত্যাদি ইত্যাদি।তবে ভুল করে একবারও জিজ্ঞেস করবে না, সে তার দিকে তাকাচ্ছিল কেন?ভাবলেও বীরেশের সাহসে কুলালো না।প্রায় চল্লিশ মিনিট সে ঠাঁয় বসে রইল।দক্ষিণ দিক থেকে তখন একটি বাস এসে দাঁড়াল।মেয়েটি বাসে উঠে পড়ল।এবং জানলার ধারে বসে ফের তাকাতে শুরু করল। বীরেশও তাকাল।মেয়েটি তখন একটি চিরকুট লিখে জানলা দিয়ে বীরেশের দিকে ফেলে দিল। কিন্তু বীরেশের দিকে পড়ল না।হাওয়ায় উড়তে উড়তে গিয়ে বাসের তলায় ঢুকে গেল।বাস না যাওয়া পর্যন্ত তাতে কি লেখা আছে দেখা যাবে না।ঘড়ি ধরে বাস পাঁচ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকল। তারপর স্টপেজ ছেড়ে চলে গেলে বীরেশ উঠে গিয়ে ওটা কুড়িয়ে আনল। দশটি সংখ্যা ছাড়া চিরকুটে আর কিছু লেখা নেই।সংখ্যা দশটি দেখে বীরেশের ওটা মেয়েটির ফোন নম্বর বলে মনে হল।তারমানে মেয়েটি ইচ্ছা করে তাকে ফোন নম্বর দিয়ে গেল। বীরেশ তাকে ফোন করলে করতে পারে।না আজ আর নয়,দু'-দিন বাদে রাতে বীরেশ তাকে ফোন করবে।
ওটা পকেটে ভরে রেখে পরে বীরেশ বুঝতে পারল যে,তার মনের কথাটাই সত্যি হল।মেয়েটি তার ভালোলাগা থেকেই তাকাচ্ছিল তার দিকে।তার চাহনিতে প্রচুর প্রশ্রয় ছিল।বীরেশ তার কাছে গেলে পরে সে তাকে ফিরিয়ে দিত না। ভালোবাসার মখমলে তাকে জড়িয়ে রেখে দিত যত্ন করে।বীরেশ তারপর বুকে হঠাৎ ব্যথা অনুভব করল।গল্পের একটি প্লটও অমনি তার মাথায় চলে এলো চট করে।গল্পটি প্রেমের। বীরেশ ঠিক করল, গল্পটি লিখে সে তার নাম দিবে 'মেয়েটি'। সুতরাং বসে আর কি করবে? বাড়ি ফিরে সে আজকেই গল্পটি লিখে ফেলবে। জোরে সাইকেল চালাতে শুরু করল।
আবদুস সাত্তার বিশ্বাস
"মেয়েটি বারবার তাকাচ্ছে কেন আমার দিকে, বলতে পারো?"
"তোমাকে চেনে হয়তো।অথবা এমনও হতে পারে তোমার মতো দেখতে তার কোন বন্ধু আছে। তুমি তার সেই বন্ধু কিনা দেখছে।"
"তাহলে সে কাছে এসে আমার সঙ্গে কথা বলে দেখুক।ওভাবে না তাকিয়ে।আমার ভীষণ অস্বস্তি লাগছে।"
"মানুষের মতো মানুষ তো থাকে।কাছে এসে দেখল,তুমি তার সেই বন্ধু নও।তখন ও লজ্জা পাবে না?তাই বারবার তাকাচ্ছে।এতে তোমার অস্বস্তি লাগার কিছু নেই।তুমিও তাকাও না?"
"মেয়েদের দিকে তাকাতে আমার লজ্জা করে।আচ্ছা,মেয়েটির তাকানোর কি আর কোন কারণ থাকতে পারে?"
"একটি মানুষ একটি মানুষের দিকে অনেক কারণেই তাকায়।তাকায় বলে তাকে খারাপ ভাবা যাবেনা। ভাবাটা কিন্তু অন্যায়।"
"না না, আমি খারাপ ভাবছি না।আমি শুধু জানতে চাইছি।"
" বুঝতে পেরেছি আমি তোমার কথা।আমি তোমাকে এমনি বললাম।হ্যাঁ, মেয়েটি তোমার দিকে যে যে কারণে তাকাচ্ছে বলে আমার ধারণা, তার মধ্যে প্রথম কারণ হল,ভালো লাগা।কোন মানুষের চোখে যখন কোন জিনিস ভালো লাগে সেই মানুষ সেই জিনিসটির দিকে কিন্তু বারবার তাকায়।দেখে যেন তার ইচ্ছে পূরণ হয় না। মেয়েটির হয়তো তোমাকে সেই রকম ভালো লেগেছে।ভাবছে, তুমি তার মনের মানুষ হলে খুব ভালো হয়।ধরে নেওয়া যেতে পারে, মেয়েটি বারবার তোমার দিকে তাকানোর এটা একটি প্রধান কারণ।কোন যুবক যখন বারবার একটি মেয়ের দিকে তাকায় তখন কিন্তু তার তাকানোর মধ্যে ভালো লাগাটাই কাজ করে।অর্থাৎ সেই মেয়েটিকে দেখতে তার ভালো লাগে বলেই বারবার তাকায়।বোঝা গেল?"
"গেল। কিন্ত মেয়েটি যে তার ভালো লাগা থেকে তাকাচ্ছে এটা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না।"
" বিশ্বাস না হওয়ার কারণ?"
"মেয়েটি কিন্তু অতীব সুন্দরী।আমার মতো বেকার যুবককে সে পছন্দ করবে কেন?তাই আমার বিশ্বাস হচ্ছে না।"
"মানুষের এই নেগেটিভ চিন্তা করাটাই খারাপ।এরকম চিন্তা যারা করে আমি তাদের পছন্দ করিনা।তুমি যে বেকার যুবক এখানে তুমি আর আমি ছাড়া কে জানে?মেয়েটি জানে?আর তাছাড়া মেয়েটি না হয় সুন্দরী হল।তুমি সুন্দর নও? মেয়েটির থেকে তুমি দেখতে কম কিসে? তোমার যেমন হাইট তেমনি সলিড বডি।প্রশস্ত বুক।মাথা ভর্তি কালো চুল।এই যে তুমি এখানে সাদা প্যান্ট-শার্ট আর কালো সু পরে রয়েছ দেখে তোমাকে বলিউডের হিরো ছাড়া কে বলবে শুনি! শুধু ওই মেয়েটি কেন?আরো অনেক মেয়েই বারবার তাকাবে তোমার দিকে।এবং তোমার সঙ্গে ডেটিংয়ে যেতে চাইবে।"
" এছাড়া আর কি কারণ থাকতে পারে?"
" কারণ তো অনেকই আছে।তবে মেয়েটির তোমার দিকে তাকানোর কারণ এখন এটাই। ভালো লাগা।"
এতক্ষণ ধরে বীরেশ তার মনের সঙ্গে কথা বলল।বীরেশ লেখালেখি করে।কিন্তু কিছু দিন থেকে একটিও গল্প সে লিখতে পারেনি। গল্পের প্লট মাথায় আসেনি।গল্পের প্লট মাথায় না এলে বীরেশ লিখতে পারে না।কেউ কেউ অবশ্য মাথা খাটিয়ে যেকোন সময় গল্প লিখে ফেলতে পারে। বীরেশ পারে না।তার মাথায় গল্পের প্লট স্বত:স্ফূর্ত ভাবে না এলে সে লিখতে পারেনা। একেক জন একেক রকম।তবে বীরেশকে গল্পের প্লটের জন্য কোন দিন ভাবতে হয়নি।স্বত:স্ফূর্ত ভাবেই তার মাথায় প্লট এসেছে।সে তখন সেই প্লটের উপর গল্প লিখেছে। কিন্তু এবার আসছে না কেন?তাহলে কি যৌবন চলে যাওয়ার মতো লেখা তার কাছ থেকে চলে গেল?
গল্পের উৎসই হল গ্রাম।তাই গল্প লিখতে হলে নাকি গ্রাম ঘুরতে হয়।গ্রামের মানুষের সুখ-দুঃখ উপলব্ধি করতে হয়।বীরেশের সে রকম মনে হলে পরে সে গ্রাম ঘুরতে বেরিয়ে পড়ল।ঘাড়ে বড় ফিতা অলা কাপড়ের কালো ব্যাগটা ঝুলিয়ে বাই সাইকেল নিয়ে। গ্রাম ঘুরতে ঘুরতে যদি গ্রামের কোন কিছু দেখে মাথায় প্লট আসে।
নদীর এপারে অনেক গ্রাম আছে।ওপারেও কম গ্রাম নেই।ছোট।বড়।এবং মাঝারি গ্রাম মিলে। এপারের গ্রাম গুলো সব ঘোরা না থাকলেও ঘোরা আছে।কিন্তু ওপারের গ্রাম গুলো ঘোরা নেই। বীরেশ তাই শ্যামপুরের ঘাট পার হয়ে ওপারে চলে গেল।প্রথমে যে গ্রাম পড়ল ওটার নাম রামকৃষ্ণ পুর।হিন্দু-মুসলিম উভয় জাতির বাস। মাঝারি গ্রাম।গ্রামটি ঘুরে বীরেশ এবার তরতিপুর গ্রামে এসে ঢুকল।এই গ্রাম ঘুরে বীরেশের মনে গ্রামটি সম্পর্কে যে ধারণা হল সেটি হল,এটা একটি বড় গ্রাম।এই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষের পেশা ব্যবসা।এই গ্রামে সব রকম জাতির বাস রয়েছে। এই গ্রামে বড় একটি সবজি হাট হয়।এই গ্রামের এক পাশ দিয়ে ভৈরব নদী কুলকুল করে বয়ে গেছে।
বীরেশ এবার রেজলা পাড়ার ভিতর দিয়ে স্বরূপপুর বাস স্ট্যান্ডে এসে দাঁড়াল।তরতিপুর থেকে বেরনোর সময় বীরেশের মনে পড়ে গেল যে,কলেজে তাদের সঙ্গে চামেলি নাম্নী একটি মেয়ে পড়ত।দেখতে সে খুব না হলেও মোটামুটি সুন্দরী ছিল।কালো মানুষ সে পছন্দ করত না।কালো মানুষ দেখলে তার ভয় করে বলত।পড়তে পড়তে তার বিয়ে হয়ে গেছে।বিয়েতে চামেলি বীরেশকে কার্ড করেছিল।ইনভাইটেশন কার্ড।এবং বারবার করে আসতে বলেছিল,"বীরেশ,অবশ্য অবশ্যই তুমি এসো।"
উত্তরে বীরেশ বলেছিল,"সে তো হল। কিন্তু কিভাবে যাবো?"
"কেন?"
বীরেশ বলেছিল,"তোমাদের গ্রাম চিনি না যে।"
শুনে চামেলি এক রকম আশ্চর্যই হয়েছিল,"সে কি!রেজলা পাড়া চেনো না?"
হাস্য মুখে বীরেশ জানিয়েছিল,"আসলে কোন দিন ওদিকে যাইনি তো।তাই চিনি না।"
চামেলি তখন বলেছিল,"লোকেশন বলে দিলে চিনতে পারবে?"
"বলো।"
চামেলি বলেছিল,"তরতিপুরের পরে হল রেজলা পাড়া গ্রাম।তুমি প্রথমে তরতিপুর যাবে। ওখানে কাউকে রেজলা পাড়ার রাস্তা জিজ্ঞেস করে জেনে নেবে।তারপর গ্রামে এসে আমার নাম যাকে জিজ্ঞেস করবে সেই বাড়ি দেখিয়ে দেবে। তুমি এসো কিন্তু।"
কলেজ জীবনের সেই পুরনো কথাটি হঠাৎ মনে পড়ে গেলে বীরেশ ভাবল,চামেলিদের বাড়িটি একবার দেখে যাবে।এবং ওখানে সে একটি মুরব্বি মানুষকে দেখতে পেয়ে তাকে রেজলা পাড়া যাওয়ার রাস্তা জিজ্ঞেস করল,"চাচা,রেজলা পাড়া যাওয়ার রাস্তা কোনটা বলতে পারেন?"
"এটাই তো রেজলা পাড়া যাওয়া রাস্তা।"সেই মুরব্বিটি বলল।
ওই রাস্তা ধরে বীরেশ এবার রেজলা পাড়া চলে এসে গ্রামের এক জনকে জিজ্ঞেস করে চামেলিদের বাড়িটি বাইরে থেকে দেখে নিয়ে চলে এলো। চামেলির বিয়েতে বীরেশের আসা হয়েছিল না। মনে পড়ে যাওয়ায় বীরেশ চামেলিদের বাড়ির ভিতর ঢুকল না।
এখানে এসে বীরেশ তার হাত ঘড়িটির দিকে তাকাল।টাইম দেখল।এখন দুপুর একটা।খাওয়া দরকার।কিন্তু পুরো বাস স্ট্যান্ড চত্বর ঘুরে বীরেশ কোথাও ভাতের হোটেল পেল না। একটি মিষ্টির দোকানে ঢুকে সে দুটি মিষ্টি ও শিঙ্গাড়া খেয়ে জল খেল।তারপর বেরিয়ে এসে একটি বন্ধ চায়ের দোকানের খালি বেনচে বসল। তার এখন ঘুম পাচ্ছে।বাড়ি হলে ঘুমিয়ে পড়ত। কিন্ত এখানে ফাঁকা জায়গা বলে বীরেশ ঘুমলো না।পকেট থেকে স্মার্টফোনটা বের করে ফেসবুকে দেখল,ছাপ্পান্ন জন তাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে। বীরেশ তাদের মধ্যে চামেলিও রয়েছে দেখল। চামেলি বাদে বীরেশ কারও ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট এ্যাকসেপ্ট করল না। এরপর ফোনটা পকেটে ভরে রেখে বীরেশ ভাবল,গল্পের প্লট এখনো তার মাথায় এলো না।গল্পের প্লট মাথায় না এলে সে বাড়িও যাবে না।এই ভাবে সাইকেলে সাইকেলে গ্রাম ঘুরে বেড়াবে।তার প্রিয় নেশা যে গল্প লেখা। সে তার প্রিয় নেশার পিছনে পিছনে ছুটে বেড়াবে।মানুষ নেশায় মত্ত হয়ে অনেক কিছু করে। অনেক জায়গায় ছুটে। প্রয়োজনে বীরেশও তাই করবে।পথকে তার ঘর করে নেবে। পৃথিবীর সব মোহ ত্যাগ করে সে তার নেশার পিছনে ছুটবে।গল্প না লিখতে পারলে সে যে বাঁচবে না। গল্পই যে তার ধ্যান,জ্ঞান, চিন্তা।গল্পই যে তার জীবন।সুতরাং গল্পই যদি সে লিখতে না পারে সে তাহলে ঘরে ফিরে আর কি করবে?ঘরে বসে বসে সে তো গল্প লেখে আর গল্প পড়ে।
তার অনেক বন্ধু আছে চাকরি পায়নি।কিন্তু বীরেশের মতো তারা কেউ বেরোজগেরে নয়। প্রাইভেট পড়িয়ে তারা মাসে অনেক টাকা রোজগার করে। ইচ্ছে করলে বীরেশও পড়াতে পারে।কিন্তু সে কখন পড়াবে?লেখা নিয়েই তো বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকে।বীরেশ লেখাকে এত বেশি ভালোবাসে যে বিয়ে সে করতেই চায়না। লেখার সঙ্গে তার নাকি বিয়ে হয়ে গেছে। সে জানে যে,বিয়ে করলে পরে সে আর লিখতে পারবে না। কলুর বলদের মতো সংসারের ঘানি টানতে হবে।টানতে টানতে সে ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়বে। তার কি দরকার?তার থেকে সে বিয়ে করবে না। যেমন আছে তেমন থাকবে।আর লেখালেখি করে জীবন কাটিয়ে দেবে।বেশ কিছু গল্প তার প্রকাশ হয়েছে। আর কিছু গল্প প্রকাশ হওয়া পর গল্পের একটি বই সে বের করবে।তার ইচ্ছা আছে।বড় গল্পকার সে হতে পারুক বা না পারুক ।তার গ্রামের মানুষ তো জানবে যে,গ্রামের আর কোন মানুষ গল্প লিখতে পারে না।কিন্তু বীরেশ পারে। সকলের নয়,তার গল্প পড়ে কিছু মানুষের ভালো লাগলেই তার জীবন ধন্য।আর তার কিছু চায়না।কথা গুলো ভেবে বীরেশ এক রকম প্রেরণা পেল।হতাশা দূর হল।
সামনে তার পিচ রোড।তবে রোডের অবস্থা যে খুব ভালো বীরেশের সেটা মনে হল না।জায়গা জায়গা চটে গিয়ে পাথর উঠে পালিয়ে গেছে।ও গর্ত।এই রোডে গাড়ি চালানো চালকের কাছে খুব কষ্টের।
রোডের ওপারে যাত্রী প্রতীক্ষালয়।বীরেশের চোখ দুটি আপনি ওদিকে চলে গেল। ভিতরে সে দেখতে পেল সাদা পোশাক পরিহিতা একটি মেয়ে বসে রয়েছে। সিমেন্টর বেনচে পা ঝুলিয়ে। খয়েরি রংয়ের একটি চামড়ার ব্যাগ তার জানুর উপর রাখা।আর তার হাত দুটি ব্যাগের উপর।বীরেশের চোখে মেয়েটি অনিন্দ্য সুন্দর এবং রূপসী বলে মনে হল।কিন্তু মেয়েটি কি জানে,বীরেশের চোখে সে যতটা সুন্দর বলে মনে হল সে ততটা সুন্দর কি? বোধহয় না।কারণ হরিণ নিজে যেমন জানেনা তার চোখ দুটি কত সুন্দর।
মেয়েটিকে দেখার পর বীরেশ বুঝতে পারল যে,সে তার দিকে তাকানোর আগে থেকেই মেয়েটি তাকাচ্ছে তার দিকে।বুঝতে পারা পর বীরেশ আর তাকাল না।অন্য দিকে তাকাল। এবং খানিক বাদে মেয়েটি এখন কোন দিকে তাকাচ্ছে দেখার জন্য তার দিকে আবার তাকাল। এমন ভাবে তাকাল মেয়েটি যাতে বুঝতে না পারে যে,সে তার দিকে তাকাল।দেখল,মেয়েটি তখনও তাকাচ্ছে তার দিকে।মিনিট পনেরো কেটে গেল এই ভাবে। মেয়েটির তাকানো তার দিকে তবু বন্ধ হল না। বীরেশের তখন মেয়েটিকে পাগলী বলে মনে হল। পাগলী না হলে কোন মেয়ে পুরুষের দিকে এই ভাবে তাকায়?কে দেখল না দেখল কোন দিকে যে তার খেয়াল নেই।পরক্ষণে তার আবার অন্য কথা মনে হল,না না, পাগলী হবে কেন?পাগলীরা কি এত ফিটফাট হয়ে থাকে?পাগলীদের শরীরের প্রতি কোন যত্ন থাকে না।বীরেশ তখন মনের সঙ্গে কথা বলল ।তার আপন মনের সঙ্গে।এবং কথা বলা শেষ করে পরে সে ভাবল, সে ওখানে মেয়েটির পাশে গিয়ে বসবে।আলাপ করবে। জানতে চাইবে তার নাম।ফোন নম্বর।এবং সে কি করে।ইত্যাদি ইত্যাদি।তবে ভুল করে একবারও জিজ্ঞেস করবে না, সে তার দিকে তাকাচ্ছিল কেন?ভাবলেও বীরেশের সাহসে কুলালো না।প্রায় চল্লিশ মিনিট সে ঠাঁয় বসে রইল।দক্ষিণ দিক থেকে তখন একটি বাস এসে দাঁড়াল।মেয়েটি বাসে উঠে পড়ল।এবং জানলার ধারে বসে ফের তাকাতে শুরু করল। বীরেশও তাকাল।মেয়েটি তখন একটি চিরকুট লিখে জানলা দিয়ে বীরেশের দিকে ফেলে দিল। কিন্তু বীরেশের দিকে পড়ল না।হাওয়ায় উড়তে উড়তে গিয়ে বাসের তলায় ঢুকে গেল।বাস না যাওয়া পর্যন্ত তাতে কি লেখা আছে দেখা যাবে না।ঘড়ি ধরে বাস পাঁচ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকল। তারপর স্টপেজ ছেড়ে চলে গেলে বীরেশ উঠে গিয়ে ওটা কুড়িয়ে আনল। দশটি সংখ্যা ছাড়া চিরকুটে আর কিছু লেখা নেই।সংখ্যা দশটি দেখে বীরেশের ওটা মেয়েটির ফোন নম্বর বলে মনে হল।তারমানে মেয়েটি ইচ্ছা করে তাকে ফোন নম্বর দিয়ে গেল। বীরেশ তাকে ফোন করলে করতে পারে।না আজ আর নয়,দু'-দিন বাদে রাতে বীরেশ তাকে ফোন করবে।
ওটা পকেটে ভরে রেখে পরে বীরেশ বুঝতে পারল যে,তার মনের কথাটাই সত্যি হল।মেয়েটি তার ভালোলাগা থেকেই তাকাচ্ছিল তার দিকে।তার চাহনিতে প্রচুর প্রশ্রয় ছিল।বীরেশ তার কাছে গেলে পরে সে তাকে ফিরিয়ে দিত না। ভালোবাসার মখমলে তাকে জড়িয়ে রেখে দিত যত্ন করে।বীরেশ তারপর বুকে হঠাৎ ব্যথা অনুভব করল।গল্পের একটি প্লটও অমনি তার মাথায় চলে এলো চট করে।গল্পটি প্রেমের। বীরেশ ঠিক করল, গল্পটি লিখে সে তার নাম দিবে 'মেয়েটি'। সুতরাং বসে আর কি করবে? বাড়ি ফিরে সে আজকেই গল্পটি লিখে ফেলবে। জোরে সাইকেল চালাতে শুরু করল।

No comments:
Post a Comment