Sunday, September 1, 2019

শ্যামা প্রসাদ সরকারের লেখা

1. 

প্রশাখা 
-----------

পেনেটির  বাড়ীটার দুইদিক ঘেরা টানা বারান্দা। লালমেঝে দুধারে মোটা সবুজ বর্ডার। সেই বর্ডারের ওপর দিয়ে একদল ডেঁয়ো পিপড়ে সদলবলে মার্চপাস্ট করে চলেছে। একটি বছর আড়াই এর বালক গালে হাত দিয়ে তন্ময় হয়ে তা বসে বসে দেখছে। 
এবাড়ীর হাওয়া এখন শান্ত, স্তিমিত। বালকটির পিতা খুবই অসুস্হ, প্রায় মরণাপন্ন। হাওয়া বদলের জন্য ডাঃ ললিতমোহন ব্যানার্জি এই বাগানবাড়ীতে কদিন এসে থাকার জন্য নিদান দিয়েছেন। গঙ্গার ধারে খোলা আলোবাতাসে রোগীকে কিঞ্চিৎ বিশ্রাম নিলে যদি কিছু উপকার হয়।  রোগটি কালান্তক ! ব্ল্যাক ফিভার এর কোনও সঠিক চিকিৎসা এখনো আসেনি এদেশে। উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী নামেরএক ব্রাহ্ম যুবক সম্প্রতি চিকিৎসাবিজ্ঞানে বেশ নাম করেছে। সমস্ত পরিকাঠামোগত অসুবিধার মধ্যেই সে নিজের বাড়ীতে ল্যাবরেটরী বানিয়ে এ রোগের ঔষধ আবিষ্কারে আত্মনিয়োগ করেছে। 

আজ সকাল থেকে জ্বরটা আসেনি। মুখে কোনও রুচি নেই যদিও। ভৃত্য প্রয়াগ এসে মুসম্বির রস রেখে যায় টেবিলে। ক্ষীণস্বরে একবার খোকা কে দেখতে চায় রোগজর্জর পিতাটি।
অসুখের কারণে বালকটিকে রোগীর ঘরে আসতে দেওয়া হচ্ছে না ! কিন্তু সুযোগ পেলেই সে এঘরে চলে আসতে চায়। তার বাবা মানুষটি তার প্রিয়। কদিন আগেও চোখপাকিয়ে, মুখ বেঁকিয়ে আজব ছড়া আর গল্প শোনাত। সবটা তার মনে নেই তবে 'পান্ত ভূতের জ্যান্ত ছানা' র ছড়াটা শুনলে সে মজা পায় খুব। বাড়ীর বড়রা তাদের বড়দাকে প্রায়ই বলে যে ' তোমার ঘরে এই পান্ত ভূতের বদলে এমন ফুটফুটে মানিক এল কি করে?' তাই শুনে হো হো হো করে সেই উদ্বাত্ত হাসিটি এখন বন্ধ ! রোগশয্যায়  তার কন্ঠস্বর ক্ষীণ থেকে ক্রমশঃ ক্ষীণতর হচ্ছে। দূরে গঙ্গায় পালতোলা একটি নৌকা ভেসে যাচ্ছে। খোকাকে তাই দেখাতে দেখাতে হঠাৎ  মাথা ঘুরে বসে পড়েন বিছানায়। তাঁর ছড়ার সেই আজব আবোলতাবোল বইটি এখনো প্রেসে। নিজের হাতে তার প্রুফ কি আর দেখা  হয়ে উঠবে ? বিলেতের ফোটোগ্রাফি সংস্হার শংসাপত্রটি কদিন আগেই  ডাকে এসেছে মেম্বারশিপ সহ ! কতকাজ বাকী রয়ে আছে এখনো। সবথেকে বড় কাজ খোকার বড় হয়ে ওঠার সাক্ষী হওয়া। 
মাথার ভিতর আঁধার ঘনিয়ে আসে। গানের পালা সাঙ্গ করে বোধহয় ঘুমের ঘোর ছেয়ে ফেলছে ক্রমশঃ। 

--------------------

টলমল পায়ে একমুখ হাসি নিয়ে সে ঘরে ঢোকে। ঘরের মধ্যেই মিনি নার্সিংহোম যেন। বিছানায় তার ঠাকুরদা হাতছানি দিয়ে ডাকেন। দীর্ঘদেহী মানুষটি জীবনের উপান্তে এসেও ছোট বড় বহুবিধ পুরস্কারে একজন জাতীয় সম্পদ। তাঁর প্রতিভার অমলদ্যূতিতে বিস্মিত সারা পৃথিবী। তবু তাঁর শ্রেষ্ঠতম পুরস্কার এই শিশু পৌত্রটিকে দেখলে মন ভাল হয়ে যায় তাঁর। হৃৎযন্ত্রের জটিল অস্ত্রোপচার সেরে সবে মাত্র বিদেশ থেকে ফিরেছেন তিনি। শরীরটা বশে নেই। শেষরাতে বুকের ব্যথাটা ফিরে আসে। ক'বছর আগেও শিস্ বাজিয়ে একটা গোটা কনচের্তো বাজিয়ে দিতে পারতেন ! এখন আর সেই ক্ষমতা নেই। একটি নতুন কাহিনী মাথায় ঘুরছে। একটু উঠে বসতে পারলেই হাত দেবেন। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্হার নীচের অন্ধকার তাঁকে ভাবাচ্ছে।
তাঁর সমস্ত সৃষ্টিই জীবনবোধ সঞ্জাতই। 

আজ বেশ সুস্হ বোধ করছেন তিনি। পৌত্রটিকে ঘরে ডাকালেন তিনি। সবে আড়াই বছরের পৌত্রটির হাসিতে একরাশ সূর্যের আলো ঠিকরে পড়ে। তবু মনটা একটু বিষণ্ণ লাগে তাঁর। কতকাজ যে বাকী রয়ে গেল। সবচেয়ে বড়কাজ পৌত্রটিকে বড় হয়ে উঠতে দেখা ! সে সময় কি তিনি আর পাবেন ! 

সামনের জানলার বাইরে কলকোলাহলময় কল্লোলিনী প্রবাহিত। তবু তিনি দেখতে পান খোলা গঙ্গা, সেই পেনেটির মতোই। একখানি পালতোলা নৌকা ভেসে চলেছে অনন্ত পথের উজানে। পৌত্রটিকে যদি তা দেখানো যেত। আফশোষ রয়েই যায় শুধু !



2.যুগান্তর
-------------
সরস্বতী পুজো সবে অতিক্রান্ত। দশবছরের ফুল্লরা ওরফে ফুলি তার কোঁচড়ে করে বেশ কয়েকটি নারকোল কুল এনেছে তার অতিপ্রিয় মোহনদাদার জন্য। তাদের গ্রামের শ্যামসুন্দরসায়র বলে একটি প্রাচীন মজা দীঘি আর সংলগ্ন ভাঙা দেবদেউল আছে। তারই একটা পৈঠায় বসে মোহন আড়বাঁশিতে মেঠোসুর ধরেছে। মোহন দ্বাদশবর্ষীয়। বালকটির দৃষ্টিতে গভীর সুচিন্তনের প্রকাশ রয়েছে বাল্যেই। অত্যন্ত মেধাবী আর শ্রুতিধর সে। তর্করত্নমহাশয়ের অতি প্রিয় সে এখনই। এই তর্করত্নেরই কন্যা ফুল্লরা। নারকোলকুলগুলি পেয়ে খুশী হয় মোহন। ফুল্লরাকে দেখলে তার কাঠবিড়ালীর কথা মনে পড়ে যায় খালি। বড়ই চপলা সে,কিন্তু মোহনদাদা তার প্রাণ। মোহনও তাকে স্নেহ মিশ্রিত চোখে দেখে সর্বদা। মোহনের মা কেই মা ডাকে মাতৃহারা ফুলি।

নিষ্পাপ বালকবালিকার এই অবাধ মেলামেশায় ছেদ পড়তে চলেছে শীঘ্রই। 
তর্করত্নমহাশয় ঠিক পক্ষকাল পরেই তাঁর প্রাণশিখাটিকে গৌরীদান করতে চলেছেন অগ্রদ্বীপ নিবাসী কূলীন ব্রাহ্মণ শ্রীজীব ন্যায়রত্ন মহাশয়কে। ন্যায়রত্নমহাশয়ের বিবাহসংখ্যা ইতিমধ্যেই তিনশো ছাড়িয়েছে,বয়স এখন পঞ্চাশ, চারশো টি তঙ্কার বিনিময়ে  তর্করত্নমহাশয়ের প্রায় সমবয়সী জামাতা হতে তাঁর আপত্তি নেই।
 কূলীনশ্রেষ্ঠের বিবাহই জীবিকা বটে। মাতৃহীন ফুল্লরাকে পাত্রস্হ করলেই কন্যাদায়ের নিষ্কৃতি পিতার। 

ইংরেজী সন ১৭৮৪ সবে, বাংলায় ইংরেজ শাসক সবে আসর সাজিয়ে বসেছে মসনদে গত দুই দশক ধরে। ইতিহাসের মধ্যযুগের অয়নান্ত হতে এখনো তিনটি দশক বাকী রয়েছে।

মাতৃহারা ফুল্লরাকে বিবাহের দিনে সাজিয়ে দিলেন মোহনের মা ই। তার চাঁপাফুলের মত মুখটি বিবাহের উপাচারে নির্বিকার। এতকিছুর মধ্যে মোহনদাদার কথাই ঘুরে ফিরে আসছে  তার বালিকার মনে। অগ্রদানী পুরোহিত রামকমল চক্রবর্তীর উঠোনের পেয়ারাগাছের পেয়ারাগুলি বড়ই সুস্বাদু। ভেবেছিল মোহনদাদার জন্য জ্যাঠাইমার কাছ থেকে কয়েকটি চেয়ে আনবে। বিবাহের হুজুগে তা আর হয়ে উঠল না।
শত অনুরোধেও মোহন বিবাহসভায় উপস্হিত হলনা। কালিদাসের কুমারসম্ভব আর নব্যন্যায়ের দুটি পুস্তিকা সদ্য তার লাভ হয়েছে। আপাততঃ তার রসাস্বাদন ছেড়ে তাকে বিচলিত করবে এমন সাধ্য কার? দ্বারবন্ধ করে সে পাঠে মশগুল। আজ যে ফুল্লরার বিবাহ,তাও হয়তো সে বিস্মৃত!

কন্যাবিদায় গৌরীদানে ঘটেনা। রজঃস্বলা হওয়ার ছ'মাসের পর শুভদিনে স্বামীসঙ্গ করতে আমন্ত্রণ জানাতে হয় জামাতাকে।পুনরায় উপযুক্ত যৌতুক আর কিঞ্চিৎ কাঞ্চনমূল্যের বিনিময়েই কুলীনকূলতিলক  শ্বশুরগৃহে রাত্রিবাস করে থাকেন। বল্লাল সেন আর দেবীবর ঘটক প্রচলিত এই কুনিয়মই আপাততঃ বলবৎ। 
জামাতা বিদায়ের সময় সমস্বরে নারীকূলের ক্রন্দনসহ উলুধ্বনি কানে আসতে মোহন জানলার ফাঁক দিয়ে উঠোনে বর কনেকে এক নজর দেখে। একটি রাতেই ফুলি কেমন বদলে গেছে সহসা। রক্তবর্ণের বারাণসীচেলী  পরিহিতা ও চন্দনচর্চিতা ফুল্লরা কে দেখে সদ্যপঠিত কুমারসম্ভবের দ্বিতীয় সর্গের শ্লোকগুলি মনে পড়ে যায় হঠাৎ। জানলা বন্ধ করে পুনরায় পাঠে মনোনিবেশ করে সে।

এই বিবাহের একমাস পরই ফুল্লরার রজোদর্শন হয়। পুষ্যা নক্ষত্রের অবস্হান দেখে জামাতা কে নিমন্ত্রণ করার দিন স্হির করতে বসেন তর্করত্ন। অঘ্রাণের গোড়ায় কার্তিকপূর্ণিমার  দিনটি প্রশস্ত। বালির কাগজে নিমন্ত্রণপত্রটি স্বহস্তে রচনা করে ভ্রাতুষ্পুত্র নলীনাক্ষকে অগ্রদ্বীপ প্রেরণ করতে প্রস্তুত হন। 

কিন্তু বিধিবিরূপ বালিকাবধূর। নলীনাক্ষ নিমন্ত্রণের বদলে বয়ে আনে দূর্যোগের সংবাদ। মাত্র পাঁচটি দিবস পূর্বেই ন্যায়রত্ন তাঁর তিনশত ত্রিশটি বধূকে অকাল বৈধব্যের আবর্তে ফেলে লোকান্তরিত হয়েছেন। এখন মৃতাশৌচের পরই সতীদাহের আয়োজন করতে হবে শীঘ্রই দূরবাসিনী রজঃস্বলা সকল স্ত্রীদেরকেই। 

পল্লীতে শোকের ছায়া নামে। বুকে পাথররেখেই তর্করত্ন রাজী হন  শাস্ত্রসম্মত  সমাজবিধিপালনে। দোলপূর্ণিমার পরদিন শ্যামসুন্দরসায়রের ঘাটে সতীদাহের তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। 

মোহনের কানে কথাটি আসে। তার মধ্যে জন্ম নেয় উষ্মা ! কিন্তু দ্বাদশবর্ষীয় বালকের এই বিরুদ্ধ মানসিকতার কি বা মূল্য হয়? মোহনের মা নিয়তিকে দোষারোপ করে চোখের  জল  ফেলেন। মোহনের রাতগুলি বিনিদ্র কাটে ! শ্যামসুন্দরসায়রের কোণটিতে মোহন বসে বিমর্ষচিত্তে। আর কিছুক্ষণ পরেই ফুলি ছাই হয়ে যাবে। 'পুড়বে সতী /উড়বে ছাই /দাও গো সব সতীর দোহাই ' ফুকার ভেসে আসছে থেকে থেকে সঙ্গে তীব্র কোলাহল আর ঢাকের শব্দ সব ছাপিয়ে। একটি কুশপুত্তলির চিতা সাজানো হয়েছে আসল মরদেহের অভাবে আর তাতেই হবে আসন্ন সতীদাহের পূণ্যকর্ম। 

আকাশজোড়া ধোঁয়ার কুন্ডলী দেখতে পায় সে। হঠাৎ যেন কানে আসে ফুলির আর্তরব...'মো ও হওওও ন ন দা আ আ দা!' 
দুটি কানে আঙুলদিয়ে ভাঁট  বাঁশঝাড়, আর কাঁটাঝোপ দিয়ে  রক্তাক্ত পায়ে মোহন ছুটতেই থাকে যতক্ষণ ওই আওয়াজ অপসৃত না হয়। ফুলির আর্তরব যেন তাকে তাড়া করে ফেরে সর্বদা। রাত্রের নিদ্রাতেও ওই দৃশ্য দুঃস্বপ্নে আসলে  আজও ঘুম ভেঙে যায় ! 

গ্রীষ্মের রাত্রি বেশ গুমোট। মোহন স্বপ্নে দেখছিলেন বাল্যস্মৃতির তাঁর গ্রাম..শ্যামসায়র..আর সেই ফুলি ! ওই আর্তরব...বাঁচার সেই আকূতি। 
শালপ্রাংশু মধ্যবয়সী মোহনের চওড়া বক্ষদেশ উন্মুক্ত। তাতে বিন্দু বিন্দু ঘামের আলিম্পন। পাশে তৃতীয়া স্ত্রী আটমাসের পূর্ণগর্ভা ঘুমে অচেতন। মোহনের স্ত্রী ভাগ্য মন্দ। পূর্বের দুটি স্ত্রী অকালমৃতা। বংশরক্ষার কারণে এই তৃতীয়বার দারপরিগ্রহ করা। 
বিছানা ছেড়ে উঠে অঙ্গরাখাটা গায়ে চাপিয়ে পড়ার ঘরে এসে সেজবাতিটি জ্বাললেন। তাঁর হাতের অালোয় ঘরটি আলোময় হয়ে উঠল। আর কয়েকঘন্টা মাত্র ! এরপর ইতিহাসের পালাবদল ঘটবে নিশ্চিতভাবেই। লাটদরবারে গতকালই সতীদাহ বন্ধের আদেশনামায় স্বাক্ষর করেছেন স্বয়ং লর্ড বেন্টিঙ্ক। সমগ্রদেশবাসীর হয়ে তিনি ও তাঁর অভিন্নহৃদয় বন্ধু দ্বারকানাথ তাঁকে জানিয়েছেন আন্তরিক  অভিবাদন ! মেয়েদের পুড়ে মরবার দিন শেষ কাল নতুন ভোরের থেকেই। প্রত্যয়িত রাজপত্রটি আর একবার পাঠ করেন তিনি। বেশ তৃপ্ত লাগছে এবার। বন্ধু রাধাকান্ত দেব সহ অভিজাত সমাজও বিরোধীতা করেছিলেন এই আইন প্রণয়নের। সরকারবাহাদুরও দ্বিধায় ছিলেন বহুদিন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্যমঙ্গল প্রেমময়ের ইচ্ছায় তা সম্পন্ন হল। এতদিনের লড়াই মিটল ১৮২৯ এ এসে। মধ্যযুগ কি তবে অবসৃত ! পাশ্চাত্যের  নতুন জ্ঞানে বিজ্ঞানে জেগে  উঠুক তাঁর স্বদেশ। তাঁর একটি কাজ শেষ হল আজ। আহ্ ! কি সুতৃপ্তি । একটি সুরাপাত্রের জন্য মনটা উন্মনা হল। পাত্রটি নিয়ে আরামকেদারাটিতে রাজার মত বসলেন। দুটি চুমুকে মনের দরজা খুলে গেল যেন। বারান্দাটি জ্যোৎস্নাপুলকিত আজ। সেখানে অস্পষ্ট এক বালিকামূর্তিকে যেন দেখতে পেলেন । বারাণসীচেলির সাজে কে ওই মেয়ে? 
জ্যোৎস্নার মলমলের আলোয় রামমোহন রায় দেখলেন তাঁর বাল্যসাথী ফুল্লরাকে সেদিনের  বিবাহের সাজে! চপলা কাঠবিড়ালের মত বালিকা টি স্মিত হেসে খানিক্ষণ তাঁর দিকে তাকিয়ে থেকে কিছু বুঝে উঠবার আগেই মিলিয়ে গেল।
 
রাজা রামমোহনের মির্জাপুরের বাসভবনের দেউড়ি র পেটা ঘড়িটি তখন রাত তিনটের ঘন্টা বাজিয়ে দিল শেষরাত্রের নিস্তব্ধতা ভেদ করেই।




No comments:

Post a Comment