Sunday, September 1, 2019

জীৎসোমার লেখা

বৃষ্টি ভেজা প্রেম

জীৎসোমা 


জাহিরা ভিজতে ভিজতেই বাড়ি ফিরছিল। বাড়িতে রয়েছে ওর তিন বছরের মেয়ে ইমন আর তার ননদ মাজেদা। জাহিরা একটি স্কুলে পড়ায়। ওর স্বামী মাজিদ তো ওকে তালাক দিয়ে আর একটা বিয়ে করেছে তখন ইমন ছ মাসের। নিজের খোঁড়া বোনটার কথাও ভাবেনি। বেচারি দাদা চলে যাবার পর বৌদির পায়ে পড়ে বলেছিল," আমাকে ফেলে দিয়ে চলে যেওনা বৌদি। আমি তোমার সব কাজ করে দেব।" মাজেদা মেয়েটি খুব শান্ত। গ্রাজুয়েট। তবু নিজের শারীরিক পঙ্গুত্বর জন‍্য সব সময় কুন্ঠিত হয়ে থাকে। তার একমাত্র ভরসা তার বৌদি। জাহিরাও ওকে খুব ভালোবাসে। জাহিরার শাশুড়ি নিজের ছেলের রকম  জানতেন তাই এই বাড়িটি মেয়ে মাজেদা আর পুত্রবধু জাহিরার নামে লিখে দিয়েছিলেন। মাজিদ অনেক চেষ্টা করেছিল বাড়িটা হাতানোর কিন্তু পারেনি। এখন জাহিরা স্কুলে পড়ায় আর মাজেদা একটা খাবার হোম ডেলিভারি চালায়। জাহিরাই ব‍্যবস্থা করে দিয়েছে। কিছু বাঁধা খদ্দেরও হয়েছে। একটি ছেলেকেও রেখেছে ওরা খাবার পৌঁছে দেবার জন্য। আজ হঠাৎ মাঝ পথে এমন ঝম ঝমিয়ে নেমে এলো বর্ষা রানী যে ভিজে ফেরা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকলনা। তাড়াতাড়ি হাঁটতেও পারছেনা এমন ভিজে গেছে ও। মনে মনে ভাবছে ইশ্ কি ভুল হয়ে গেছে। আজকে ফিরেই ছাতাটা বার করে ব‍্যাগে ভরতে হবে। রাস্তাটা পেরোবে বলে দাঁড়িয়ে পড়ল জাহিরা। হঠাৎ পাশের থেকে কেউ বলল," ভেজা স্বভাবটা তোমার যায়নি দেখছি।" জাহিরা তাকিয়ে আছে আগন্তুকের দিকে। এ কাকে দেখছে ও। এ যে ইমন! আগন্তুক বলে উঠল," এই জুতো খুলোনা যেন, ইশ্ কি কাদা মাখা।" জাহিরা হেসে ফেললো। বলল," তুমি তো ভিজতে ভালোবাসতে না। তাহলে তুমি ভিজছ কেন?" ইমন বলল," ঐ চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলাম। দেখলাম তুমি এসে দাঁড়ালে। ব‍্যস্! লোভ সামলাতে পারলামনা। চলে এলাম। তবে এখন ছাতা থাকলেও ভিজি মাঝে মাঝেই।" জহিরার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। চোখ ঠেলে জল আসছে ওর। কোনো মতে নিজেকে সামলে বলল," রাস্তাটা পেরোলেই আমার বাড়ি। চল এসো। আমার কিন্তু ভালো চা করার স্বভাবটাও যায়নি। এসো।" ইমন ইতস্তত করছে। জাহিরা ওর হাতটা ধরে ওকে টেনে নিয়ে চলল। ইমন দেখল সেই কলেজের মেয়েটাকে যে ওকে এরকমই টেনে নিয়ে যেত জোর করে। 

বাড়ি পৌঁছে বেল টিপল দরজার। মাজেদা এসে দরজা খুলে দিতেই ছোট্ট ইমন আম্মু বলে ঝাঁপিয়ে পড়েই বলল," ইশ্ তুমি ভিজে গেছ আম্মু। দাঁড়াও গামছা আনি"। বলে সে ছুটে ভেতরে চলে গেল। জাহিরা মাজেদাকে চায়ের জল বসাতে বলল। তারপরই ঘটল এক কান্ড। জাহিরা তার মেয়েকে ডেকে বলতে যাচ্ছিল যে গামছাটা ইমনকে দিতে। কিন্তু যেই সে ইমন বলে ডাকল, সঙ্গে সঙ্গে দুটো সাড়া এল। সবাই অবাক। জাহিরা হেসে ফেলল। মেয়েকে বলল," মা এই চাচুমনণিকে গামছাটা দাও। আমি বাথরুমে চলে যাচ্ছি।" যাবার আগে আলমারি থেকে মাজিদের জন‍্য কেনা নতুন পাঞ্জাবি আর একটা বারমুডা ইমনকে দিয়ে বলল," ঐ দিকে আর একটা বাথরুম আছে। তুমি ফ্রেশ হয়ে নাও। শুধু শুধু ভিজলে।" ইমন ফ্রেশ হয়ে দেখল ছোট্ট ইমন জানলার কাছে বসে আছে। ইমন ওর কাছে গিয়ে দাঁড়াল। একটা সাংঘাতিক স্নেহের টান অনুভব করল। ছোট্ট ইমন ওকে জিজ্ঞেস করল," চাচুমণি তোমারও নাম ইমন?" ইমন বলল," হ‍্যাঁ "। জাহিরা চা নিয়ে ঢুকল। ইমনের হাতে কাপটা দিয়ে বলল," মাজু পিঁয়াজী করছে। এলো বলে। নাও চা খাও ততক্ষণ।" কাপটা হাতে নিয়ে ইমন বলল," এতটাই যদি ভালোবাসো তাহলে কেন সেদিন চলে গেলে জাহিরা? আমি হিন্দু বলে আমাকে ত‍্যাগ করলে?" জাহিরা চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর আস্তে আস্তে বলল, " ওসব কথা থাক। তোমার কথা বলো। তোমার স্বপ্ন ছিল আই পি এস হবার। পূরণ হয়েছে স্বপ্ন?" ইমন বলল," শুধু কি আমার স্বপ্ন ছিল সেটা? আমার থেকে বেশি তোমার ছিল। তুমি চেয়েছিলে আমি আমি পি এস হই।" মাজেদা ঘরে ঢুকল পিঁয়াজীর প্লেট নিয়ে। বলল," বৌদি প্লেটটা নাও না।" জাহিরা তাড়াতাড়ি ওর হাত থেকে প্লেটটা নিয়ে নিল। মাজেদা আবার বলল," বৌদি দুটো বাড়ি থেকে খিচুড়ি অর্ডার করেছে তাই আমাদের জন‍্যও করছি। ওনাকে বলো না খেয়ে যেতে।" জহিরা বলল," তুই বল। ঐ দেখো লজ্জা পায়। আরে উনি আমার বন্ধু, আমি যেমন তোর আপা তেমন উনি তোর ভাইজান। আয়।" বলে জাহিরা মাজেদার হাত ধরে ইমনের কাছে নিয়ে আসে। মাজেদা বলে," ভাইজান আজ রাতে খেয়ে যাবেন দুটো আমাদের সাথে।" ইমন কেমন যেন একটা মায়া বোধ করে। বলে," আচ্ছা"। মাজেদা খুশি হয়ে রান্নাঘরের দিকে চলে যায়। এরপর ছোট্ট ইমন তার নতুন চাচুমণির সাথে মেতে ওঠে। তারপর রাতে খিচুড়ি, ওমলেট,আলু ভাজা খেয়ে ইমন বেরিয়ে পড়ে। অফিসে পৌঁছে দেখে সেখানে হুলুস্থুল কান্ড। ওর জুনিয়ররা ওকে ট্রেস করতে না পেরে অস্থির হয়ে উঠেছে। অভিজিৎ নামের একজন অফিসার বলল, " স‍্যার আপনি সেফ ছিলেন তো? আমরা তো চিন্তায় পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম। আপনার মোবাইলটা সুইচড অফ বলছে কন্টিনিউয়াসলি। যে জায়গায় আপনার ফোনটা অফ হয়েছে সেখানেও গেছিলাম। শেষে ভাবলাম নির্ঘাত আপনাকে কিডন‍্যাপ করেছে। যেভাবে ঐ ড্রাগ র‍্যাকেটের পিছনে পড়েছেন।" ইমন হো হো করে হেসে উঠলো। অভিজিৎকে কাছে ডেকে বলল," অভি তুই একটা পাগল। মোবাইলটা জল ঢুকে মনে হয় দেহ রেখেছে। নতুন কাল সকালে আসবে। যা যা তোরা বিশ্রাম নে গিয়ে। আর আমি ঘরে যাচ্ছি, দরকার হলে ল‍্যান্ডলাইনে কল করিস।" 

ওদিকে ছোট্ট ইমন তার আম্মুর কাছে গল্প শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়েছে। জাহিরার পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে। সে আর ইমন কলেজে পড়ার সময় কত স্বপ্ন দেখেছিল। ইমনকে আই পি এস হতেই হবে আর ও নিজে মাইক্রো বায়োলজি নিয়ে পি এইচ ডি করবে, বই লিখবে। একসাথে সংসার করবে। ইমনের কেউ ছিলনা মা ছাড়া। অন‍্য দিকে জাহিরা নাম করা ব‍্যবসায়ী আনোয়ার বেগের মেয়ে। জাহিরার সৎ আম্মি ছিল। জাহিরা
 যখন বিশ্ব বিদ্যালয়ে ঢুকল তখন বাড়িতে জানাজানি হয়ে গেল যে জাহিরা কোনো হিন্দু ছেলের সাথে জড়িয়েছে। কিন্তু ভাগ্য বশত ওরা জানতে পারেনি ছেলেটি কে আর জাহিরার মুখ থেকেও বার করতে পারেনি। জানতে পারলে ওরা ইমনের ভবিষ‍্যৎ নষ্ট করে দিত। সৎ আম্মি পরামর্শ দেন যে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জাহিরার নিকাহ দিতে হবে না হলে ও ঐ হিন্দু  কাফের ছেলের সাথে মুখ কালা করে আসবে। কোথা থেকে এই মাজিদের সম্বন্ধেটাও নিয়ে আসে। আনোয়ার বেগ কিছুই দেখলেন না, মেয়ের নিকাহ ঠিক করে দিলেন। একদিন জাহিরা কলেজে সার্টিফিকেট তুলতে যাবার কথা বলায় ওর আব্বু চিৎকার করে বলে," আবার ঐ কাফেরটার সাথে দেখা করার মতলব। এক পা বাইরে রাখলে আমি আত্মহত্যা করব। আমি কিছুতেই তোকে আমার ইজ্জতে দাগ লাগাতে দেবনা। যা ভেতরে যা।" জাহিরা শান্ত ভাবে বলল," এখুনি যদি আমাকে কলেজে যেতে না দাও তাহলে আমি আত্মহত্যা করে তোমার ইজ্জতে দাগ লাগাব। সেটা ভালো হবে আব্বু? আমি তোমাকে কথা দিয়েছি যে যেখানে খুশি,যার সাথে খুশি তুমি বলবে আমি নিকাহ করব। এখন আমি আসি।" সেদিন কলেজে ইমনের সঙ্গে ওর শেষ দেখা হয়। খুব কেঁদেছিল ওরা। জাহিরা ওর একাউন্ট থেকে সব টাকা তুলে এনে ইমনকে দিয়ে বলেছিল," আই পি এস তোমাকে হতেই হবে।" এর এক সপ্তাহের মধ্যে ওর নিকাহ্ মাজিদের সাথে হয়ে যায়। মাজিদ কি একটা ইমপোর্ট এক্সপোর্টের ব‍্যবসা করে। মাজিদের মা আফরিন মানুষটা ভালো ছিলেন। যে স্কুলটিতে জাহিরা পড়ায় আফরিন ওখানকার প্রিন্সিপাল ছিলেন। মাজিদের স্বভাব ছিল সে দিনের পর দিন বাড়ি ফিরতনা। ঘরে জাহিরা একা আর ওর সঙ্গী মাজেদা। জাহিরা নিকাহর পর থেকে আজ পর্যন্ত আব্বুর বাড়ি যায়নি। আনোয়ার বেগ নিতে এলেও যায়নি। আফরিন বার বার বলেও মাজিদকে যখন শোধরাতে পারলেন না তখন তিনি জাহিরাকে স্কুলে পড়ানোর কথা বলেন। জাহিরা হাফ ছেড়ে বাঁচে। তারপর একদিন সে জানতে পারে সে মা হতে চলেছে। আফরিন ভাবে এবার ছেলে শোধরাবে। তার আশাটুকু ভাঙ্গে যখন মাজিদ জাহিরাকে তালাকনামা ধরায়। সেদিন ই মাজিদের সাথে আফরিনের শেষ দেখা হয়েছিল। হার্ট অ্যাটাকে আফরিনের ইন্তেকাল হয়। মাজিদকে কোথাও পাওয়া যায় না খুঁজে। ওকে ছাড়াই আফরিনের শেষ কাজ হয়। জাহিরার আব্বু এসেছিল ওকে নিয়ে যেতে। কিন্তু জাহিরা যায়নি। আনোয়ার বেগ দাঁতে দাঁত ঘষতে ঘষতে বলেছিল," আমি জানতাম না মাজিদটা এরকম নীচ। জানিস কতবার আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে? আমার টাকা নিয়ে আমার মেয়েকে তালাক? তুই চল মা আমার সাথে আমি তোর আবার নিকাহ দেব।" জাহিরা শান্ত ভাবে উত্তর দেয়, "আব্বু তুমি বাড়ি যাও। আমার ব‍্যাপার আমি বুঝে নেব। তোমাকে মাথা ঘামাতে হবে না। একবার নিকাহ দিয়ে আমার জীবনটা বরবাদ করে শান্তি হয়নি তোমার? আমার  লেখাপড়াটা পর্যন্ত শেষ হতে দাওনি তুমি। যাও আব্বু বাড়ি যাও।" তারপর মাজিদ বেশ কয়েকবার এসেছে বাড়ির দখল নিতে কিন্তু পারেনি। আর আজ বছর ছয় পরে ইমনের সঙ্গে দেখা। ইমনকে ও কোনোদিন ভুলতে পারেননি। তাই তো মেয়ের নাম রেখেছে ইমন। কমসে কম নামটা তো ওর সাথে থাক, মানুষটা না থাক।

বেশ কটা দিন কেটে গেছে। জাহিরা স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছে। আজও বৃষ্টি পড়ছে। রাস্তাটা পার হবার সময় ও চায়ের দোকানটার দিকে দেখল। মনটা খারাপ হয়ে গেল ওর। এ কদিন ও রোজ দেখেছে চায়ের দোকানটার দিকে। খুব হতাশ লাগছে ওর। এরকম বৃষ্টিতে ও কত ভিজেছে ইমনের সঙ্গে। ইমন ভিজতে চাইতনা কিন্তু ও হাত ধরে টেনে নিয়ে আসত ইমনকে। নিজের অজান্তেই হেসে ফেলল জাহিরা। তারপর ভাবল বোকার মতো কেন ও ইমনকে আশা করছে? ইমনের নিশ্চয়ই ঘর সংসার আছে। কেন ও আসবে জাহিরার কাছে? এসব ভাবতে ভাবতেই ও বাড়ির কাছে পৌঁছে দেখে বাড়ির সামনে একটা সরকারি গাড়ি দাঁড়িয়ে। ও ভয় পেয়ে যায়। ভাবে মাজিদ কি আবার কোনো ফন্দী করেছে। পড়ি কি মরি করে ঘরে ঢুকে ও অবাক হয়ে যায়। ইমন মাজেদা আর ছোট্ট ইমনের সঙ্গে লুডো খেলছে। ওরা এত খেলায় মত্ত যে জাহিরাকে লক্ষ্য করেনি। জাহিরার চোখে জল। সে সামলে নিয়ে বলে,"ও মা! তুমি কতক্ষন?" ইমন ওর দিকে না তাকিয়েই বলে," সে অনেকক্ষণ। বিরক্ত করোনা আমাদের। যাও একটু চা করে আনো তো। খেলতে খেলতে থুড়ি হারতে হারতে আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি। এই দুই বেটি আমাকে গো হারা করে ছেড়েছে।" জাহিরা ইমনের পিঠে একটা আলতো থাপ্পড় দিয়ে রান্নাঘরে চলে গেল। চা করতে করতে কেঁদে ফেলল ও। বুঝতে পারলনা যে আনন্দে কাঁদছে না দুঃখে। হঠাৎ ওর কাঁধে একটা স্পর্শ অনুভব করল। নিজেকে সামলে পিছনে ঘুরতেই দেখল ইমন দাঁড়িয়ে। দুজনেই দেখছে একে অপরকে। ইমন বলল," চল এবার যেতে হবে তো। আর কতকাল অকারণ বনবাস করবে? চলো এবার যাই।" জাহিরা কেমন অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো। ইমন ওর কাঁধে হাত দিয়ে বলল," হ‍্যাঁ গো তুমি তো এমন ছিঁচ কাঁদুনে ছিলেনা। এ মা গো চোখ মুখের কি ছিরি করেছ? ইশ্!" জাহিরা ইমনের পেটে এক ঘুষি মারল। ইমন চোখ পাকিয়ে বলল, " কি এসিস্ট্যান্ট কমিশনার ক্রাইম ব্রাঞ্চের পেটে ঘুষি? কোথায় গেল হাত কড়াটা?" বলে পকেট থেকে একটা ছোট্ট কৌটো বার করে বলল," যা হাতকড়ার জায়গায় এটা কি?" জাহিরা কৌটোটা খুলেই চিৎকার করে ওঠে," এটা তো সেই আংটি।" তারপর বলে," না না ইমন এ আমি নিতে পারবনা। তোমার ঘর আমি ভাঙ্গতে পারবো না। ইমন মাথায় হাত দিয়ে বলল, "মা তো কবেই কেটে পড়েছে।অফিসের দেওয়া একটা ফ্লাট, তাতে একটা বুড়ো কুক আর একটা ঠিকে ঝি। আমার এই ঘর ভেঙ্গে তোমার কি লাভ বলো তো? তার চেয়ে চল সবাই একসঙ্গে থাকা যাবে। ব‍্যাটা বুড়োকে রান্না করা শিখিয়ে দেবে মাজু। চলো চলো আর দেরি করোনা।" জাহিরা বলে," এ কি করে সম্ভব? আমার মেয়ে আছে, মাজেদা আছে।" ইমন জাহিরার হাত দুটো ধরে বলে," সোনা। তোমাকে কখনো সোনা বলিনি। তুমি বলতে আমাকে। ন‍্যাকা ন‍্যাকা মনে হতো। কিন্তু তুমি চলে যাবার পর তোমার ঐ ডাকটাই আমি সব থেকে মিস করি। এখানে পোস্টিং নিয়ে আসার পর যেন আরো বেশি করে শুনতে চেয়েছি। আমাকে আর ফিরিওনা। তোমার যারা সব থেকে আপন তারা আমার সব থেকে আপন না হয়ে পারে? ইমন আমার মেয়ে, মাজু আমার বোন। মাথায় করে রাখব সোনা তোমার আপনজনদের।" জাহিরা নিষ্পলক চোখ তাকিয়ে থাকে আর ভাবে মানুষটাকে কি কষ্ট দিয়েছি। না না আর না। তাছাড়া আমার কি ভালোবাসা পাবার অধিকার নেই? মুখে বলল," যদি না যাই?" ইমন বলল," হাত ধরে রাস্তার মাঝে হিড় হিড় করে টেনে নিয়ে যেতে তুমি একাই পারো?" হেসে ফেলল জাহিরা। ইমন বলল," যাবে তো?" জাহিরা বলল," যাবো যাবো সোনা।" ইমনের চোখের জল আর বাঁধ মানলোনা। দীর্ঘ বিরহের পালা শেষ হল। পূর্ণতা পেল তাদের প্রেম। বাইরে অঝোরে বৃষ্টি হচ্ছে তখনও।

জাহিরা এখন জাহিরা বেগ ব‍্যানর্জী। আবার এম এস সি তে এডমিশন নিয়েছে। মাজেদার বন্ধুত্ব অভিজিতের সাথে হয়েছে। অভিজিৎ অনাথ। সে মাজেদাকে পছন্দ করে কিন্তু বলতে ভয় পায়। জাহিরা খুব পিছনে লাগে ওর আবার ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহও করে। ছোট্ট ইমন এখন ইমনকে আব্বু বলে। যেদিন জাহিরা ছোট্ট ইমনকে বলল," মা চাচুমণি না ওনাকে আব্বু বলো।" ছোট্ট ইমনের সে কি আনন্দ। সে বলল," আমার ও আব্বু! আম্মু? কি মজা আমার ও আব্বু।" বেচারি কতবার তার মাকে জিজ্ঞেস করেছে তার আব্বু কেন নেই। ইমন ছোট্ট ইমনকে লিগালি এডপ্ট করার সব ব‍্যবস্থা করে ফেলেছে। এখন খুব ভালো আছে ওরা। 




No comments:

Post a Comment